
নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর প্রথম দিনে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে ব্যাংকটির দিলকুশা শাখায় সরেজমিন দেখা যায়, বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শাখাটি। প্রবেশপত্রে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের কর্মীরা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন। অনেকটা উৎসবের আমেজে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তাঁরা।
টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। আজ যাঁরা টাকা তুলছেন, তাঁদের মূলত নতুন টাকার নোট দেওয়া হচ্ছে।
শাখাটির কর্মকর্তারা জানান, ১১ অক্টোবর যাঁরা টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন, আজ তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় অন্য গ্রাহকদেরও অর্থ দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ কেউ তুলতে চাইলে তাঁকে কয়েক দিন পর আসতে বলা হয়েছে।
সকালে এই শাখায় কথা হয় মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া শাখার এক গ্রাহক মোহাম্মদ হান্নান দেওয়ানের সঙ্গে। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এই শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা করে তুলেছি। আজ ৪০ হাজার টাকা তুলেছি। বাবা হাসাপাতালে ভর্তি; তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতি সপ্তাহে ২০ হাজার টাকা লাগে। এর আগে একসঙ্গে বেশি টাকা তুলতে চেয়েছিলাম; কিন্তু পাইনি।’
ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশার শাখা ব্যবস্থাপক মঈনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১১ অক্টোবর যাঁরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন, তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য গ্রাহকদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই শাখায় মোট ৩৩ জন গ্রাহক প্রথম দিনে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।
শাখার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ঘণ্টায় মোট ৪০ জন গ্রাহককে ৩২ লাখ টাকার মতো ফেরত দেওয়া হয়েছে। টাকা তোলার পাশাপাশি টাকা জমাও নেওয়া হচ্ছে এই শাখায়। অনেক গ্রাহক আজ টাকাও জমা দিয়েছেন।
ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক শেখর ঘোষ। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আজ এসেছিলেন সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলতে। এর আগে ১১ অক্টোবর তিনি চাহিদা অনুযায়ী টাকা তোলার জন্য এই শাখায় আবেদন করেছিলেন।
টাকা তোলার পর শেখর ঘোষের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলতে বেশ ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যায়নি। আজ চাহিদামতো সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা তুলতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।
শেখর ঘোষ আরও বলেন, ‘আমি ব্যাংকের দিলকুশা শাখার পুরোনো গ্রাহক। এই শাখায় আমার হিসাব থেকে সব টাকা তুলিনি। ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করছে শুনে ১১ অক্টোবর আবেদন করেছিলাম। যেটুকু আমার এখন প্রয়োজন, সেটুকুই তুলেছি। আশা করছি, ভবিষ্যতেও টাকা তুলতে সমস্যা হবে না। গ্রাহকেরা যেন টাকা থাকার পরও টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সেটাই আমার চাওয়া।’
এদিকে আজ নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর এই কার্যক্রমকে ব্যাংকের নবযাত্রা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।
৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংক জানায়, তাদের গ্রাহকেরা ১৫ অক্টোবর থেকে সব ধরনের স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন। গ্রাহকেরা সারা দেশে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই দিন থেকে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ব্যাংকের সব ডিজিটাল ও অনলাইন সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু হবে।