
— লেনদেন ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে টাকা ফেরত দিতে হবে।
— ডিসেম্বর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তির নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে।
বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে প্রণোদনার পরিধি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে ব্যক্তিগত রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে যুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবাদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টগুলো এ সুবিধা পেত। এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী সব মার্চেন্ট পয়েন্টকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।
এটা নিয়ে আজ রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় প্রণোদনার হার আগের মতোই রাখা হয়েছে। প্রতিটি যোগ্য বাংলা কিউআরভিত্তিক ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের অর্থের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে।
সে হিসাবে ১ হাজার টাকার একটি যোগ্য লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা হবে ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানের ২ টাকা। অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট প্রণোদনা হবে ৩ টাকা। আর প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ২ হাজার টাকার একটি লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ৪ টাকা। ফলে একটি লেনদেনে দুই পক্ষের সম্মিলিত প্রণোদনা সর্বোচ্চ ৬ টাকা হবে।
তবে এ প্রণোদনা গ্রাহকেরা পাবেন না। মূলত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলা কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
এদিকে অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে কেনাকাটার ক্ষেত্রে লেনদেন বিলম্বিত হওয়া বা আটকে যাওয়ার সমস্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধানে একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কেনাকাটার লেনদেন খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আস্থা ধরে রাখতে ট্র্যাডিশনাল কার্ড লেনদেনের তুলনায়ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা জরুরি। জটিলতা বা বিলম্ব হলে সাধারণ ব্যবহারকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহ হারাতে পারেন। এ কারণে গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত স্বয়ংক্রিয় রিভার্সাল চালু এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পেমেন্ট পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে লেনদেন ব্যর্থ হলেও গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কেটে গেলে অভিযোগ ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে তা ফেরত দিতে হবে। একই ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত সাধারণ বিরোধ তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ভিন্ন ব্যাংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে এনপিএসবির পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটিজনিত জটিলতা কমাতে লেনদেন সফল হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে জানার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
নীতিমালার নির্দেশনা না মানলে বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্রাহকের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ‘বাংলাদেশ পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এমএফএস বা পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।