
রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ। এবার দশমবারের মতো এ আয়োজন করেছে এইচএসবিসি।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় এইচএসবিসি। পুরস্কারের জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘এই পুরস্কার সেই অগ্রণী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি, যারা বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের পরিচয় নতুনভাবে গঠন করছে।’ হাইটেক উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সেবা থেকে টেকসই উৎপাদন পর্যন্ত যাঁরা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাঁদের উৎকর্ষ, সৃজনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্বের পথচলা উদ্যাপন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় মো. মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। আগে যাঁরা এ পুরস্কার পেয়েছেন, এ অনুষ্ঠানে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান, উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ আলোচনা করেন।
মনোনয়ন ফরম পূরণের মাধ্যমে ‘বছরের সেরা রপ্তানিকারক’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন অংশগ্রহণকারীরা। শুধু এইচএসবিসির গ্রাহক নয়, সব রপ্তানিকারক এ পদকের জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বীকৃতি হিসেবে পদক দেওয়া হবে, তবে অর্থ পুরস্কার নেই।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান তালুকদার নোমান আনোয়ার পুরস্কারের জন্য অংশগ্রহণের নিয়ম ও নীতিমালা তুলে ধরেন।
যেসব ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে, সেগুলো হলো রপ্তানিতে এক্সিলেন্স-তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি), রপ্তানিতে এক্সিলেন্স-তৈরি পোশাকশিল্পের (আরএমজি) ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, রপ্তানিতে এক্সিলেন্স-অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র-ম্যানুফ্যাকচারিং ও রপ্তানিতে এক্সিলেন্স-অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র-সার্ভিস বা সেবা খাত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আরএমজি ক্যাটাগরিতে বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বা তার বেশি—এমন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অ্যাপারেল পণ্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আরএমজি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে হলে বার্ষিক রপ্তানি আয় হতে হবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বা এর বেশি। এ ক্যাটাগরিতে তৈরি পোশাকশিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে সহায়তা করে—এমন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনা করা হবে।
অসনাতন বা নতুন ও উদীয়মান ক্ষেত্রের ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাটাগরিতে বার্ষিক রপ্তানি আয় ১ কোটি মার্কিন ডলার বা তার বেশি—এমন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, অটোমোটিভ কম্পোনেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য এ ক্যাটাগরির আওতায় আছে।
সেবা খাতে বার্ষিক রপ্তানি আয় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি—এমন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পেশাদারি, ডিজিটাল ও জ্ঞানভিত্তিক সেবা বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজয়ীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়িত্ববোধ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া, বৈচিত্র্য (ডাইভারসিটি), নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান পরিপালনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।
অংশগ্রহণের জন্য মাশুল নেই। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে এইচএসবিসির গ্রাহক হওয়ারও প্রয়োজন নেই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মনোনয়ন ফরম ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে।