
নগদবিহীন (ক্যাশলেস) লেনদেন পরিচালনার জন্য বিমাকারী অর্থাৎ বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, এই ব্যাপারে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নির্দেশিকা তৈরি করবে। প্রিমিয়াম জমা দেওয়া হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। বিমাকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, স্বল্পমেয়াদি লাভের চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা পথ হারিয়েছি। এখন এটিকে একটি উৎপাদনশীল খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
আজ সোমবার ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আইডিআরএর নতুন ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল বিমা ম্যানুয়াল উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ কথাগুলো বলেন।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সহসভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী এবং আইডিআরএর সদস্য (নন-লাইফ) আবু বকর সিদ্দিক।
গভর্নর বলেন, নতুন ওয়েবসাইটে নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বিমাকারীদের তথ্য দেওয়া দরকার। নইলে ডিজিটাইজেশন বিলম্বিত হবে। যদি নগদ লেনদেন কমানো যায়, তাহলে রাজস্ব বাড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ লক্ষ্যে সহায়তা করবে।
গভর্নর বলেন, ‘সুশাসন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে না। ব্যাংক খাত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেব আমরা। ব্যাপক সুশাসন সম্পর্কিত শর্ত আছে। এগুলো পালন না করলে হবে না। নিয়ন্ত্রক, বিমাকারী ও সবারই দায়িত্ব রয়েছে। বাজার নিজের গতিতে এগোতে পারে। তবে আমরা তা স্বাধীনভাবে হতে দিই না।’
গভর্নর আরও বলেন, দায়িত্ববোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগ, হিসাব-নিকাশ ও প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করা যায়নি। কারণ, অপর্যাপ্ত তহবিল। তহবিলকে সুন্দর এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।
গভর্নর বলেন, দেশে বিমা খাত এখনো ছোট। সরকার কিছু উদ্যোগ নিতে পারে, তবে বাজারই পণ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিমা চলনশীল বা অচল সম্পত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। বাজার কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, এ ক্ষেত্রে সরকারেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত। বাজার সম্প্রসারণ না হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কার্যত সীমিত থাকবে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম বলেন, ‘ডিজিটাল ম্যানুয়ালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো আইন, বিধি-নিয়ম ও প্রক্রিয়া এই ম্যানুয়ালের মাধ্যমে সহজে অনুসরণ করা যাবে। আমরা আইনগত, ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ করছি। এই ম্যানুয়াল ডিজিটাল সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সংস্কার বাস্তবায়ন হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিমা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে। আর যদি না হয়, তাহলে বিমা খাতের সমস্যাগুলো আরও জটিল ও ঘনীভূত হবে।’
বিআইএফ সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোর অর্থ ব্যাংকে জমা রয়েছে। অর্থের অভাবে তারা যেন বিমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ না হয়। এ বিষয়ে তিনি গভর্নরের সহায়তা চান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সংস্কারমূলক কাজ হাতে নিয়েছে আইডিআরএ। ভবিষ্যতে আইডিআরএ বিমা খাতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
বিআইএর সহসভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডিজিটাল বিমা ম্যানুয়ালটি বিমা ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সবার কাজে লাগবে।