দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান এবং প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। আজ সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান
দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান এবং  প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। আজ সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান

এইচএসবিসির আলাপচারিতা

গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকটই এখন রপ্তানিতে প্রধান সমস্যা

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তিন রপ্তানিকারক মনে করেন, গ্যাস–বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো এখন রপ্তানি খাতের প্রধান সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জের সমাধান করা গেলে রপ্তানি বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করতে হবে এবং শিক্ষাপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ মেধাবী ও পরিশ্রমী। যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে তাঁরা ভালো করেন।

দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন রপ্তানিকারক এমন অভিমত দেন। তাঁরা হলেন প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান ও উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ। তাঁরা রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান।

অনুষ্ঠানে দেশের রপ্তানি খাতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে দশমবারের মতো ‘এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ প্রদানের ঘোষণা দেয় এইচএসবিসি বাংলাদেশ। আলোচ্য তিন রপ্তানিকারক যথাক্রমে আহসান খান চৌধুরী, এনায়েতুর রহমান ও আসিফ আশরাফ ইতিপূর্বে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও।

উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘আমি বুয়েট থেকে পড়াশোনা করে সিলিকন ভ্যালিতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখলাম, চিপের প্রয়োজনীয়তা অসীম। প্রতিটি প্রযুক্তিতে চিপের প্রয়োজন হচ্ছে। ২০০৭ সালে দেশে ফিরে চার প্রকৌশলীকে নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। এখন আমাদের কোম্পানিতে ৬০০ প্রকৌশলী কাজ করছেন। আমেরিকার ১০০ কোম্পানি আমাদের গ্রাহক। অ্যাপলের ফোনের চিপের কাজ আমাদের ৪০ প্রকৌশলী করেন।’

রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে এনায়েতুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক মানুষ। তাঁরা পরিশ্রমী। যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তাঁরা ভালো করবেন। এ ক্ষেত্রে একটি বড় হলো শিক্ষাব্যবস্থা। তাই শিক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে যথাযথ পাঠদান করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখানে আমাদের অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘এইচএসবিসির এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস প্রদানের উদ্যোগ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। প্রাণ গ্রুপ কৃষিপণ্য দিয়ে যাত্রা করেছিল। বাংলাদেশের আরও বেশি পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের ব্র্যান্ডকে আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই। কৃষি খাতে আমরা ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে চাই।’

চ্যালেঞ্জ নিয়ে আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভালো ও পরিশ্রমী। তাঁরা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থাকতে চান। কিন্তু অবকাঠামো সমস্যার সমাধান না হলে রপ্তানি এগোবে না।’

উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ বলেন, ‘ভবিষ্যতে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা বাড়িয়ে রপ্তানি বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য। জ্বালানি এখন আমাদের প্রধান সমস্যা। এর দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া সময়মতো কাঁচামাল পাওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের জন্য।’

তিন রপ্তানিকারকের কথার সূত্র ধরে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ অবকাঠামো এখন প্রধান সমস্যা। রপ্তানি বাড়াতে হলে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।