দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলা ১৩৯টি ক্যাম্পেইন বা প্রচারাভিযান পেয়েছে বর্ষসেরার স্বীকৃতি। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত ‘ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’-এ সেরা ডিজিটাল প্রচারাভিযানগুলোকে ২৪টি ক্যাটাগরিতে চারটি বিশেষ র্যাঙ্কের আওতায় পুরস্কৃত করা হয়েছে।
গত শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে উদ্ভাবনী ও গ্রাহকবান্ধব প্রচারাভিযানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দেশের ছয় শতাধিক ডিজিটাল বিপণন ও ব্যবসায়িক পেশাজীবী।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও দ্য ডেইলি স্টারের সৌজন্যে সপ্তমবারের মতো আয়োজিত হয় ‘ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড’। এবারের আয়োজনে কৌশলগত অংশীদার ছিল বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ফোরাম ও ইনটেলিফাইল। নলেজ পার্টনার বা জ্ঞানগত অংশীদার হিসেবে ছিল মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি)।
প্রযুক্তিবিষয়ক অংশীদার ছিল আমারা নেটওয়ার্কস লিমিটেড ও পিআর পার্টনার বা জনসংযোগ অংশীদার ছিল ব্যাকপেজ পিআর।
বাংলাদেশে ডিজিটাল যোগাযোগ ও প্রচারণার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড হলো একমাত্র সম্মাননা। এ বছর পুরস্কারের জন্য ১ হাজার ৩৭টি আবেদন জমা পড়ে। সেগুলোর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের একক ও যৌথ প্রচারাভিযান মনোনীত হয়। চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ১৩৯টি প্রচারাভিযানের মধ্যে ছিল ১৯টি গোল্ড, ৪৯টি সিলভার ও ৭১টি ব্রোঞ্জ পুরস্কার। এবারের আসরে ‘গ্র্যান্ড প্রিক্স’ র্যাঙ্কে স্বীকৃতি পায়নি কোনো প্রচারাভিযান।
চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করার জন্য ‘শর্ট লিস্টিং’ ও ‘গ্র্যান্ড জুরি’—দুই স্তরে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ১৩৬ জন জুরির সমন্বয়ে ১০টি জুরি প্যানেল ৪৫৩টি প্রচারণাকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করে। এ তালিকায় থাকা প্রচারাভিযানগুলো ১১৫ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ১০টি গ্র্যান্ড জুরি সেশনে পুনরায় যাচাই করা হয়। পুরো আয়োজনের বিচারক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্যিক খাতের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা।
পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে এডিএ (তিনটি সিলভার), অ্যানালাইজেন বাংলাদেশ লিমিটেড (দুটি সিলভার ও দুটি ব্রোঞ্জ), আর্টোলজি (একটি ব্রোঞ্জ), এশিয়াটিক ইভেন্টস মার্কেটিং লিমিটেড (একটি সিলভার), এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেড (চারটি সিলভার ও পাঁচটি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও নগদ লিমিটেড (একটি গোল্ড, দুটি সিলভার ও দুটি ব্রোঞ্জ), এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার লিমিটেড (দুটি গোল্ড, ছয়টি সিলভার ও ছয়টি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার লিমিটেড ও গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেড (দুটি সিলভার ও একটি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার লিমিটেড ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ (একটি সিলভার), বিকাশ লিমিটেড (একটি গোল্ড, একটি সিলভার ও আটটি ব্রোঞ্জ), চরকি (একটি গোল্ড ও পাঁচটি সিলভার), কো ডিজাইন লিমিটেড (একটি ব্রোঞ্জ), দারাজ বাংলাদেশ (দুটি ব্রোঞ্জ), এফসিবি বিটপি (দুটি গোল্ড, চারটি সিলভার ও ছয়টি ব্রোঞ্জ), গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেড (চারটি গোল্ড, একটি সিলভার ও ছয়টি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেড ও ওয়েভমেকার বাংলাদেশ (একটি সিলভার), যৌথভাবে গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেড ও এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার লিমিটেড (দুটি সিলভার), লাই টু আই (দুটি সিলভার), মেডলি লিমিটেড (একটি সিলভার ও দুটি ব্রোঞ্জ), এমবিএ বাংলাদেশ (দুটি ব্রোঞ্জ), মিডিয়াকম লিমিটেড (দুটি গোল্ড ও চারটি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে মিডিয়াকম লিমিটেড ও এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেড (একটি সিলভার), এমপাওয়ার বাংলাদেশ (দুটি সিলভার ও দুটি ব্রোঞ্জ), নগদ লিমিটেড (একটি গোল্ড ও তিনটি ব্রোঞ্জ), নোশনহাইভ (একটি গোল্ড), ওঅ্যান্ডজেড সলিউশনস (একটি সিলভার), রিচঅ্যাবল (একটি ব্রোঞ্জ), শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (একটি ব্রোঞ্জ), স্টারকম বাংলাদেশ (একটি গোল্ড, দুটি সিলভার ও চারটি ব্রোঞ্জ), সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড (একটি গোল্ড ও দুটি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড (একটি ব্রোঞ্জ), যৌথভাবে সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও মিডিয়াকম লিমিটেড (একটি সিলভার ও একটি ব্রোঞ্জ), ওয়েভমেকার বাংলাদেশ (একটি সিলভার ও একটি ব্রোঞ্জ), ওয়েবঅ্যাবল ডিজিটাল (একটি গোল্ড, একটি সিলভার ও পাঁচটি ব্রোঞ্জ), এক্স-ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সি (একটি গোল্ড, দুটি সিলভার ও দুটি ব্রোঞ্জ)।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ আয়োজনে মনোনয়ন পাওয়া প্রচারাভিযানগুলো প্রমাণ করে, আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ডিজিটাল উদ্ভাবন, পেশাদারি ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছি। আশা করব, এ সম্মাননা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণায় আরও আগ্রহী করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ছাড়াও ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজরাপশন: গাইডিং থ্রু দ্য ডিজিটাল ট্রেইন’ প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী ছিল ডিজিটাল সামিট। সামিটের সূচিতে ছিল তিনটি প্যানেল আলোচনা, চারটি কি-নোট সেশন ও দুটি ইনসাইট সেশন।