নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তরঙ্গ’

ব্র্যাক ব্যাংক নিয়ে এসেছে একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত লোন প্রোডাক্ট ‘তরঙ্গ’
ছবি: ব্র্যাক ব্যাংকের সৌজন্যে

সারা দেশে পণ্য পরিবহনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয় নদী ও সমুদ্রপথে, যা বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সরকার নতুন করে নদী খনন ও নৌপথ উন্নয়নে জোর দেওয়ায় ভবিষ্যতে এই খাতের ব্যবহার আরও বাড়বে এবং সেই সঙ্গে বাণিজ্যিক নৌযানের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লজিস্টিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে নৌপথ।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ নৌপথ ব্যবহার করে বালু ও কৃষিজাত পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করা হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তা ছাড়া নৌপথে পণ্য পরিবহন খরচও তুলনামূলক অনেক কম।

বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণা নিবন্ধ অনুযায়ী, প্রতি টন মালামাল এক কিলোমিটার পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়ক ও রেলপথে যথাক্রমে ৪.৫০ টাকা এবং ২.৭৪ টাকা খরচ হলেও নৌপথে এই খরচ এক টাকারও কম। বৈদেশিক পণ্য আমদানি কিংবা দেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথ এখনো প্রধান মাধ্যম। দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশ এবং কৃষি ও নির্মাণসামগ্রীর একটি বড় অংশ পরিবহনের প্রধান উপায় হলো এই নৌপথ।

মূলত সড়কপথের তুলনায় খরচ কম হওয়া এবং সড়কের ওপর চাপ কমাতে নৌপথ ব্যবহারে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ফলে সচল নৌযানগুলোর সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক, নিরাপদ এবং দক্ষ নৌযানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা এ খাতে অর্থায়নের নতুন চাহিদা তৈরি করছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মাছ ধরার ট্রলার, কার্গো জাহাজ, তেলবাহী ও বালুবাহী ভেসেল, ড্রেজার, লাইটার জাহাজ, বার্জ, টাগবোটসহ ছোট-বড় মিলিয়ে এক লাখের বেশি পণ্যবাহী নৌযান রয়েছে। এসব নৌযান ক্রয় বা রক্ষণাবেক্ষণে মেয়াদি ঋণ দিতে পারলে খাতটি দ্রুত বিকশিত হবে।

বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসারের লক্ষ্যে নৌযানের বাড়তি চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ব্র্যাক ব্যাংক নিয়ে এসেছে একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত লোন প্রোডাক্ট ‘তরঙ্গ’। এর মাধ্যমে নতুন নৌযান নির্মাণ, নতুন বা ব্যবহৃত নৌযান ক্রয় বা মালিকানা হস্তান্তর, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮ বছর মেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় এলাকার নৌযানগুলোতে এই অর্থায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজস্ব নৌযান থাকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আবদুল মোমেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের নৌযান খাত দীর্ঘদিন ধরে অর্থায়ন সংকটে ভুগছিল, যার কারণে এটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। তরঙ্গ চালুর মাধ্যমে এই খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে অর্থায়ন পেয়ে তাঁদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন।’

আবদুল মোমেন আরও উল্লেখ করেন, ‘আগে ব্যাংকিং সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় এই খাতের উদ্যোক্তাদের অনানুষ্ঠানিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতো। নদীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সাশ্রয়ী, দক্ষ ও টেকসই লজিস্টিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করছে ব্র্যাক ব্যাংকের এই নতুন উদ্যোগ। ব্র্যাক ব্যাংকের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, সঠিক সময়ে সঠিক খাতে অর্থায়ন শুধু ব্যবসাই নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিকেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।’