‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬’–এর আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হয় ‘লার্ন টু লিড’ ক্যাম্পাস রোড শো। যা তরুণদের দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ইউনিলিভার বাংলাদেশের একটি সমন্বিত উদ্যোগ
‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬’–এর আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হয় ‘লার্ন টু লিড’ ক্যাম্পাস রোড শো। যা তরুণদের দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ইউনিলিভার বাংলাদেশের একটি সমন্বিত উদ্যোগ

আগামীর পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে হবে

আগামীর পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে এখন একযোগে চিন্তা, বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন এবং ভোক্তাদের আচরণে রূপান্তরের ফলে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের দক্ষতার চাহিদাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে একাডেমিক শিক্ষা এবং বাস্তব কর্মজগতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ স্নাতক হয়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক, যা স্পষ্টভাবে দেখায় যে শুধু একাডেমিক অর্জন কর্মজীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং ব্যবহারিক দক্ষতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা তরুণদের আরও প্রস্তুত করে তুলতে পারে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাকে আরও ব্যবহারিক ও প্রাসঙ্গিক করা যেমন জরুরি, তেমনি নিয়োগকর্তাদেরও তরুণদের শেখা ও বিকাশের যাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হওয়া প্রয়োজন। কারণ, কর্মজীবনের প্রস্তুতি এককালীন প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক যাত্রা, যা শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই গড়ে তোলা সম্ভব।

এ প্রেক্ষাপটে ইউনিলিভার বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিভা বিকাশকে একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে, ‘পিপল আর অ্যাট দ্য হার্ট অব আওয়ার বিজনেস’ (People are at the heart of our business)—অর্থাৎ মানুষের উন্নয়নই টেকসই ব্যবসায়িক অগ্রগতির ভিত্তি। পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের সক্ষমতা গড়ে তুলতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এই অঙ্গীকারের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন হলো ‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬’—যা তরুণদের দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ইউনিলিভার বাংলাদেশের একটি সমন্বিত উদ্যোগ।

২০১০ সালে শুরু হওয়া বিজমায়েস্ট্রোজ গত ১৬ বছরে একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য তৈরি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের ‘রিয়েল বিজনেস’-এর অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের কৌশলগত চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং বাস্তব ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা গড়ে তোলা।

১৬তম আসরে এসে বিজমায়েস্ট্রোজকে ইউনিলিভার ফিউচার লিডার্স প্রোগ্রামের (ইউএফএলপি) সঙ্গে একীভূত করে একটি আরও সমন্বিত নেতৃত্ব বিকাশমুখী যাত্রা তৈরি করা হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগটি শুধু প্রতিভা চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি কাঠামোবদ্ধ শেখার প্রক্রিয়া, যা অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা একসঙ্গে বিকশিত করতে সহায়তা করে।

এ উদ্যোগের থিম ‘ডিসরাপ্ট টু উইন’—যা পরিবর্তনকে বোঝা, উদ্ভাবনকে গ্রহণ করা এবং চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করার মানসিকতা তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে এই দক্ষতাগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি লিডারশিপ ইনকিউবেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ধাপে ধাপে শেখা, প্রয়োগ এবং মূল্যায়নের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। এখানে তারা শিল্পের পরিবর্তনশীল ধারা, ভোক্তাদের আচরণের রূপান্তর এবং একটি শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি প্রতিষ্ঠানের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত ‘লার্ন টু লিড’ ক্যাম্পাস রোড শো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তাদের সামনে কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ওয়েবিনার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসারিত করা হয়েছে, যাতে এই শেখার সুযোগটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।

প্রোগ্রামটির নির্বাচনপ্রক্রিয়াও অভিজ্ঞতাভিত্তিক সাজানো। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিগত আবেদন, অ্যাপটিটিউড মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল ইন্টারভিউর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষণী এবং যোগাযোগ দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণকারীরা বুটক্যাম্পে অংশ নিয়ে ইউনিলিভারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ভোক্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন।

ডিসকভারি সেন্টারের মতো ধাপগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা দলগত কাজ, সমস্যার বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এর মাধ্যমে তারা কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে। সর্বশেষ ধাপে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত কেস উপস্থাপনার মাধ্যমে শেখা ও প্রয়োগের সমন্বয় ঘটে।

বিজমায়েস্ট্রোজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি একাডেমিক শিক্ষা এবং বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে। অংশগ্রহণকারীরা ইউনিলিভারের বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান, যা তাদেরকে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেয়। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্ম তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সৈয়দা দুরদানা কবির

করপোরেট জগতে ইউনিলিভারকে ‘স্কুল অব লিডার্স’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যার পেছনে রয়েছে প্রতিভা বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং একটি সুসংগঠিত পদ্ধতি। এই বিকাশ প্রক্রিয়া শুরু হয় শিক্ষাজীবন থেকেই, যেখানে বিজমায়েস্ট্রোজের মতো প্ল্যাটফর্ম তরুণদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে এবং তাদের নেতৃত্বের যাত্রার ভিত্তি তৈরি করে।

আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা শুধু কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত নয়, বরং পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। যারা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ হবে, উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেবে এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।

বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে সম্ভাবনা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সৃজনশীলতার কোনো ঘাটতি নেই। এখন প্রয়োজন সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সঠিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সংযোগ ঘটানো। ‘বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি’-এর মতো উদ্যোগ সেই সংযোগ তৈরির একটি প্রচেষ্টা—যেখানে তরুণেরা শেখার, নিজেদের যাচাই করার এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়।

সবশেষে বলা যায়, আগামীর কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুতি মানে শুধু প্রথম চাকরির জন্য প্রস্তুত হওয়া নয়; বরং এমন একটি সক্ষমতা তৈরি করা, যা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে, নতুনভাবে শিখতে এবং জটিল চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপ দিতে সাহায্য করে। এই যাত্রায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত কর্মশক্তি গড়ে তুলতে।