আধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে
আধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে

যে তিন কারণে ব্যবহার করবেন আধুনিক ইনভার্টার এসি

তীব্র তাপপ্রবাহে স্বস্তির খোঁজে ঘরে কিংবা অফিসে এসি (শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) বর্তমানে অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব। এই দুই সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে বর্তমানে বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ‘ইনভার্টার এসি’। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এসব স্মার্ট এসি আরামদায়ক শীতলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব।

ইনভার্টার প্রযুক্তি যেভাবে কাজ করে

সাধারণ এসি এবং ইনভার্টার এসির মূল পার্থক্য লুকিয়ে আছে এর কম্প্রেসরের কার্যপদ্ধতিতে। সাধারণ এসি ঘর নির্দিষ্ট মাত্রায় ঠান্ডা করার পর কম্প্রেসরটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং ঘরের তাপমাত্রা বাড়লে আবার পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। বারবার চালু এবং বন্ধ হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর বিদ্যুৎ অপচয় হয়।

অন্যদিকে ইনভার্টার এসি কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এটি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী নিজের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। যখন ঘর কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রায় পৌঁছায়, তখন কম্প্রেসরটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে থাকে। ফলে বারবার স্টার্ট নেওয়ার বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয় না। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি মানসম্মত ইনভার্টার এসি সাধারণ এসির তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম।

এ প্রসঙ্গে বেকো ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র স্পেশালিস্ট সানজানা মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইনভার্টার প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এসিগুলো বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের খরচ একটি বড় বিষয় হওয়ায় গ্রাহকেরা দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ের দিকটি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বেকোর মতো অন্য ইনভার্টার এসিগুলো এখন একটি স্মার্ট বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

আর-৩২ গ্যাস

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এসিতে ব্যবহৃত গ্যাসের (রেফ্রিজারেন্ট) ধরনেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে আধুনিক ইনভার্টার এসিতে আর-৩২ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে ব্যবহৃত আর-২২ বা আর-৪১০-এ গ্যাসের তুলনায় এর ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল’ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ক্ষমতা অনেক কম। এটি ওজোন স্তরের কোনো ক্ষতি করে না।

এ প্রসঙ্গে সানজানা মাহমুদ বলেন, পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট যেমন আর-৩২ ব্যবহার করা এসিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। বর্তমান সময়ে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ার কারণে অনেক গ্রাহক এখন এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ক্রেতা আগ্রহের তিন কারণ

বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ডের এসি থাকলেও গ্রাহকদের ঝোঁক এখন ইনভার্টার এসির দিকেই বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে—

সাশ্রয়ী বিল: মধ্যবিত্ত গ্রাহকের কাছে মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইনভার্টার এসি দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল অর্থ সাশ্রয় নিশ্চিত করে। সাধারণ এসির তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও তুলনামূলক কম।

স্থায়িত্ব ও শব্দহীনতা: ইনভার্টার এসির কম্প্রেসর বারবার চালু-বন্ধ হয় না বলে এর যন্ত্রাংশের ওপর চাপ কম পড়ে। এতে এসির আয়ু বাড়ে এবং এটি চলে অত্যন্ত নিঃশব্দে, যা কর্মব্যস্ত জীবনের পর নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের নিশ্চয়তা দেয়।

সূক্ষ্ম তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ এসিতে ঘরের তাপমাত্রা বারবার ওঠানামা করে, যা শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু ইনভার্টার প্রযুক্তি ঘরের তাপমাত্রা সব সময় স্থির রাখে, যা শিশুদের বা বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী।

কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে ভূমিকা

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয়, যা বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু ইনভার্টার এসি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ করে, তাই এটি পরোক্ষভাবে কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখছে। বাসাবাড়িতে সাধারণ এসির বদলে ইনভার্টার এসি ব্যবহার করলে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। এ ছাড়া ইকো-মোড বা আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহার পরিবেশ রক্ষায় বাড়তি সুবিধা যোগ করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইনভার্টার এসির পূর্ণ সুবিধা পেতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। ঘরের আয়তন অনুযায়ী সঠিক টনের এসি নির্বাচন এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। এ ছাড়া দক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা বছরে অন্তত দুবার সার্ভিসিং করালে এসির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। ভুল ইনস্টলেশন বা নিম্নমানের কেব্‌ল ব্যবহারের ফলে অনেক সময় ইনভার্টার এসির পিসিবি বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনুমোদিত শোরুম থেকে এসি কেনা ও সার্ভিস নেওয়া উচিত।