ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ‘ঢাকা শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকবৃন্দ’ নামে একটি সংগঠন
ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ‘ঢাকা শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকবৃন্দ’ নামে একটি সংগঠন

ড্যাপ বিধিমালা সংশোধনের দাবি ঢাকার ভূমিমালিকদের

বিগত সরকারের তৈরি ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ‘ঢাকা শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকবৃন্দ’ নামে একটি সংগঠন। তারা ২০০৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়েছে।

আজ রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ড্যাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা শহরের ভূমিমালিকেরা এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সমন্বয়ক দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দোসর ও রাজউকের কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকা শহরের বহুবিধ সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে ড্যাপ ২০২২-৩৫ প্রণয়ন করা হয়। এটি ঢাকা শহরের নাগরিকদের মধ্যে বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহসমন্বয়ক মো. হুমায়ন কবির, কে এম এজাজ মাহমুদ, সৈয়দা আফসারুন নাহার, মো. তানভিরুল ইসলাম, মো. আবুল হোসেনসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার ভূমিমালিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ড্যাপে ঢাকা শহরের মাত্র ২০ শতাংশ পরিকল্পিত এলাকায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ এলাকাকে অপরিকল্পিত ট্যাগ দিয়ে ভবনের উচ্চতা ও আয়তন কমিয়ে দেওয়া হয়। যে কারণে আমরা নগরবাসী নতুন করে কোনো ভবন নির্মাণ করতে গেলে দেখতে পাই যে একই পরিমাণ জমিতে আগে যেখানে ১০ তলা ভবন হতো এবং যে আয়তন পাওয়া যেত এখন সেখানে পাঁচ তলা ভবন ও অর্ধেক আয়তন পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতি ও চরম বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একই পরিমাণ জমিতে আগে যেখানে ১০ তলা ভবন হয়েছে সেখানে এখন পাঁচ তলা হবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বৈষম্যহীন ড্যাপ সংশোধন না করলে একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন ঢাকার এসব জমির মালিক।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার সব এলাকায় ২০০৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী ভবণ নির্মাণ এবং ওই বিধিমালায় যেখানে রাস্তা অনুযায়ী যত তলা পাওয়া যেত এখনো তত তলার অনুমতি প্রদান। এ ছাড়া ঢাকা শহরের সব রাস্তাকে কমপক্ষে ২০ ফুটে উন্নীতকরণ; জলাশয়, খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট বন্দ করা; ধানিজমিতে ভবন নির্মাণের অনুমতি প্রদান বন্ধ; নির্মাণ অনুমোদন সহজীকরণ এবং রাজউকের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।