ফিরে দেখা অর্থবছর ২০২০–২১

অর্থনীতির বড় স্বস্তি প্রবাসী আয়ে

ছবি প্রথম আলো

শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে অর্থনীতির নানা টানাপোড়েনের মধ্যে সুখবর ছিল প্রবাসী আয়ে। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আবার বিশ্বজুড়ে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় অর্জনে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে নতুন উচ্চতায় উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অর্থবছরজুড়ে করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতির নানা অস্বস্তির মধ্যে স্বস্তি দিয়েছে প্রবাসী আয়।

জানা যায়, প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে গত মঙ্গলবার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৬ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকার মতো। এর আগে গত মে মাসের শুরুতে রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে মোট ১৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত (২ দিন বাদে পুরো অর্থবছরে) প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৮০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এতে দেখা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় এই অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয় পাঠানোকে উৎসাহিত করতে সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে মূলত বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমে যায়। করোনার মধ্যে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হলেও তেমন প্রভাব পড়েনি। বরং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর পরিমাণ বেড়েছে।

এদিকে করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয় অর্জনে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (নোমাড) অর্ধবার্ষিক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে প্রবাসী আয় অর্জনে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত বহুপক্ষীয় ট্রাস্ট ফান্ড নোমাড গত ১২ মে এ তথ্য প্রকাশ করে।