
দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রাণিসম্পদের অবদান অনেক। তবে স্বল্প পুঁজি, কম জায়গা ও পালন সহজ হওয়ায় গ্রামীণ পরিবারে ছাগল পালন বেশ জনপ্রিয়। দেশে ছাগলের দুটি জাত বেশি দেখা যায়। এগুলো হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও রামছাগল বা যমুনাপারী ছাগল।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ছাগল পালন হয়েছে।
দেশের কোন জেলা ছাগল উৎপাদনে শীর্ষে? এই বিষয়ে তাই কৌতূহল জাগা স্বাভাবিক। ছাগল পালনে শীর্ষ দুই বিভাগ খুলনা ও রাজশাহী। এই দুই বিভাগের মধ্যেই শীর্ষ দশ জেলার অবস্থান। এবার দেখা যাক, দেশে ছাগল পালনে শীর্ষ দশ জেলা কোনগুলো।
যশোর একটি মৃতপ্রায় বদ্বীপ। পদ্মা ও হুগলি নদীর মধ্যবর্তী বৃহৎ বদ্বীপটির একটি অংশ হচ্ছে যশোর। এই জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ ২৪ হাজার ছাগল পালন হয়। এর আগের অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ ৭১ হাজার ছাগল পালন করা হয়।
পাবনা জেলা পদ্মা ও যমুনা নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত। ১৯৪৮ সালে যমুনা নদীকে পাবনা জেলার সীমানা নির্ধারক ঘোষণা করা হয়। এই জেলার আয়তন ২ হাজার ৩৭২ বর্গকিলোমিটার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় প্রায় ১০ লাখ ৬৪ হাজার ছাগল পালন করা হয়, যা তার আগের অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ১০ লাখ ২৪ হাজার।
মেহেরপুর বাংলাদেশের পশ্চিমা সীমান্তবর্তী জেলা। মেহেরপুর জেলার আয়তন প্রায় ৭১৬ বর্গকিলোমিটার। এই জেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার ছাগল পালন করা হয়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৩ হাজার।
নাটোরের জেলার উত্তরে বগুড়া ও নওগাঁ জেলা। আর পূর্বে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা। এ ছাড়া নাটোর জেলার দক্ষিণে অবস্থান পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার। এই জেলার আয়তন প্রায় ১ হাজার ৮৯৬ বর্গকিলোমিটার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় প্রায় ১১ লাখ ৫২ হাজার ছাগল পালন হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পালন করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৪১ হাজার।
বাংলাদেশের অন্যতম জনবহুল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ঝিনাইদহ জেলা। এই জেলার আয়তন প্রায় ১ হাজার ৯৬৫ বর্গকিলোমিটার। এই জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১১ লাখ ৬৪ হাজার ছাগল পালন করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল প্রায় ১১ লাখ ৭৯ হাজার।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। এ দেশের উত্তর-পশ্চিমে মেহেরপুর, উত্তর-পূর্বে কুষ্টিয়া ও দক্ষিণ-পূর্বে ঝিনাইদহ। এই জেলার আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৭১ বর্গকিলোমিটার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় প্রায় ১২ লাখ ৫৮ হাজার ছাগল পালন হয়। এর আগের অর্থবছরে হয় সাত লাখের বেশি।
কুষ্টিয়া জেলার উত্তর–পশ্চিম এবং উত্তরে পদ্মা নদী। অপর তীরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলা। কুষ্টিয়ার দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা। এই জেলার আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬০৯ বর্গকিলোমিটার। সব মিলিয়ে এই জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ছাগল পালন হয়। এর আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৮ হাজার।
দেশের উত্তরে অবস্থিত জেলা রাজশাহী। এই জেলার আয়তন ২ হাজার ৪০৭ বর্গকিলোমিটার। সব মিলিয়ে এই জেলায় নিবন্ধিত গবাদিপশুর খামার রয়েছে ৬৩৫টি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় ছাগল পালন হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৩৩ হাজার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ লাখ ২৪ হাজার।
নওগাঁ জেলা রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এর উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে নাটোর ও রাজশাহী জেলা, পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অবস্থান। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছাগল পালনে এই জেলার অবস্থান প্রথম হলেও গত অর্থবছরে ছাগল পালনে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নওগাঁয় ছাগল পালন হয় ২৩ লাখের বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় ছাগল পালন হয় ১৩ লাখ ৩৪ হাজার।
জয়পুরহাট রাজশাহী জেলার উত্তরে অবস্থিত। জয়পুরহাট জেলার উত্তরে দিনাজপুর ও ভারত। আর পূর্বে গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলা। বিগত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ছাগল পালন হয়েছে এই জেলায়। সেই অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ ২ হাজার ছাগল পালন করা হয়। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই জেলায় ছাগল পালন হয় প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার। ৯৬৫ বর্গকিলোমিটারের জয়পুরহাটে ৩৬৪টি নিবন্ধিত ছাগলের ফার্ম বা খামার রয়েছে।
সূত্র : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর