এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি চিকিৎসা খরচ কমাতে যেমন নানা ধরনের ছাড় দিয়েছেন, তেমনি ওষুধের দাম নাগালে আনতে ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক–কর ছাড় দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন। ফলে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা সহজ হবে, চিকিৎসা খরচ কমবে এমনটাই মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
প্রথমেই আসি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের ভাতা প্রসঙ্গে। ক্যানসারসহ ৬টি দুরারোগের চিকিৎসায় ভাতা বাড়িয়েছে অর্থমন্ত্রী। আগে এই ছয় রোগে আক্রান্ত একজন ভাতাভোগী এসব রোগের চিকিৎসার জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা পেতেন। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়িয়ে ৬৫ হাজারে উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পের নতুন ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল আমদানির শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওষুধশিল্পে ব্যবহৃত বায়োলজিক্যাল সেফটি কেবিনেট আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ১ শতাংশে এবং স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এই ধরনের শুল্ক–কর কমানোর ফলে ওষুধশিল্পের উদ্যোক্তারা বাড়তি সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিক্যাল ডিভাইস শিল্পকে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্প খাত হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হৃদ্রোগের চিকিৎসা খরচ কমবে। যেমন হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিটি রিংয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন।
শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রতি বাজেটে আরও বেশি মানবিক হয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এই ধরনের ব্যক্তির ব্যবহারের জন্য আমদানি করতে হয় এমন ১৫টি পণ্যের অগ্রিম কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশে কিডনির সমস্যা নিয়ে অনেকেই ভোগেন। এ জন্য কিডনি সমস্যাজনিত রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ফিল্টারের দাম কমবে। এ ছাড়া ডায়ালাইসিস বাবদ প্রত্যেক রোগীর খরচ ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
কিডনির রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এই সেবা নিতে খরচ কমবে।
মৃত দেহ সংরক্ষণের জন্য মরচুয়ারি আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষাতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাঋণ ও ব্যাংক ঋণসুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে ব্যয়বহুল এই পড়াশোনায় আগ্রহী মেধাবীদের অর্থায়ন সহজ হবে। এতে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর অগ্রযাত্রায় বাধা হতে পারবে না।
সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম ১০টি অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখা হয়েছে। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা রেকর্ড, এর আগে কখনো এত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এই খাতে।