
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার কাছে এগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে আগামী দিনে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও ভালো করা যায়।
আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তা সম্প্রসারণে নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত। অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। ভিসা কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। ওই সময় থেকে ভারত কঠোর নীতি গ্রহণ করে ভিসা দেওয়ার কাজ সীমিত করে। বিশেষ করে পর্যটক ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার মূলত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে বন্ধ থাকা বর্ডার হাট ও বেশ কিছু স্থলবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে—এমন মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের জোগান নিশ্চিত করা—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারত এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাণিজ্যে তার প্রভাব পড়বে, যা আমাদের ওপরও আসতে পারে। তবে আশার কথা হলো, দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও জোগান রয়েছে।’
যা বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা যেন নিজ নিজ জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হয়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। কীভাবে এটিকে আরও ভবিষ্যৎ–মুখী, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর করা যায়, অর্জনগুলোকে ব্যবহার করে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করা যায় এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক কীভাবে আরও গভীর করা যায়—বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ–মুখীভাবে একসঙ্গে কাজ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং মানুষকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করার আমাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে অনেক কিছুই অর্জন করা যাবে।
সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘না, এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে অবশ্যই এসব বিষয় আমাদের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক আলোচনার অংশ। ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থলবন্দরও গুরুত্বপূর্ণ।’