ফারজানা হক
ফারজানা হক

কেমন বাজেট চাই

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট পথনকশা থাকুক 

কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। তাই নতুন সরকারের নতুন বাজেট সামনে রেখে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষ চান দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসুক। ব্যবসায়ীরা চান ব্যবসার পরিবেশ সহজ হোক, শুল্ক–করের চাপ কমুক। তরুণেরা চান শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত উন্নত হোক। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গৃহিণী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার ছয়জনের বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে এ আয়োজন।

নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট থেকে আমার অন্যতম প্রত্যাশা—অর্থনীতির আস্থা ও গতি ফিরিয়ে আনা। কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের ধীরগতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের নানা চ্যালেঞ্জ অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই এবারের বাজেটকে আমি শুধু আয়-ব্যয়ের বিবরণ হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি রোডম্যাপ বা পথনকশা হিসেবে দেখতে চাই।

ব্যাংক খাতের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে আর্থিক খাতের সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তিনটি বিষয়ে। প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। তৃতীয়ত, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও করের আওতা সম্প্রসারণ।


ফারজানা হক, প্রধান, সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সিটি ব্যাংক