বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহও কিছুটা কমেছে।
চলতি মাসের শুরুতেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছিল ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপানকারী কোম্পানিগুলো। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল। মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেশ কিছুদিন ঠিক ছিল। এখন আবার কমেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আদাবর বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ঘুরে ও ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা মুদিদোকানগুলোয় আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো বাজারে কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। তারা সয়াবিন তেলের দাম আরও কিছুটা বাড়াতে চায় বলে সরবরাহকারীরা (ডিলার) জানিয়েছেন। অবশ্য সব বাজারে যে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ সমানভাবে কমেছে, বিষয়টি এমন নয়।
কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমার আরও একটি কারণ রয়েছে। এক ও দুই লিটারের বোতল বিক্রি করলে লাভ পাওয়া যায় খুব কম। এ কারণে অনেক এলাকার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা এই দুই আকারের বোতল কম বিক্রি করেন। সে তুলনায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি করলে তাঁদের লাভ বেশি থাকে।
২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হয় ২০৪ টাকা। এর আগে এক লিটারের বোতল ১৯৯ টাকায় বিক্রি হতো। অবশ্য ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে বাড়তি দামের কারণ দেখিয়ে প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লিটারে পাঁচ টাকা দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের একটি শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম অনেক বেড়েছে। আমাদের যে দামে কিনতে হয়, সে তুলনায় আমরা দাম বাড়াতে পারিনি।’ তবে মিল থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেনি বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।