র‍্যাবের লোগো
র‍্যাবের লোগো

র‍্যাবের নতুন সদর দপ্তর ভবন নির্মাণে ১৭২ কোটি টাকার কাজ পেল এম জামাল

র‍্যাবের নতুন সদর দপ্তরের (র‍্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর ভবন) ১১ তলা ভবন নির্মাণে ১৭২ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।

১৭২ কোটি টাকা পুরো প্রকল্পের ব্যয় নয়; এটি সদর দপ্তর ভবনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর একটি প্যাকেজের নির্মাণ ব্যয়। পুরো প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ–বিষয়ক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নেওয়া এ–বিষয়ক প্রকল্প ২০১৮ সাল থেকে চলমান। বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। নতুন ভবন নির্মাণে পূর্তকাজের জন্য এ দফায় প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ক্রয় কমিটি।

জানা গেছে, ই-জিপি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে মোট ১০টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ছয়টি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৭২ কোটি টাকার কাজ পায় এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি।

তবে দরপত্রের দাপ্তরিক প্রাক্কলন ছিল ১৯১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সে হিসাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দর প্রায় ২০ কোটি টাকা কম। ১৭২ কোটি টাকা অবশ্য পুরো সদর দপ্তর প্রকল্পের ব্যয় নয়; মূল সদর দপ্তর ভবনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নির্মাণ প্যাকেজের ব্যয়।

২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এই প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তখন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত হিসাবে পরে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এই বড় প্রকল্পেরই গুরুত্বপূর্ণ পূর্তকাজের একটি হলো ১১ তলা সদর দপ্তর ভবন। ভবনটির নকশা করা হয়েছে ১৫ তলা ভবনের উপযোগী ভিত্তির ওপর। এর নিচে থাকবে তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা এবং নিচতলায় পার্কিং। এতে তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা ও নিচতলায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ভবনে র‍্যাবের মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন শাখার দপ্তর রাখার পরিকল্পনা আছে।

শুধু মূল ভবন নয়, প্রকল্পের আওতায় আরও কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে আছে তিনতলা অস্ত্রাগার ভবন, তিনতলা উপকেন্দ্র ভবন, গুদাম, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, গভীর নলকূপ, জলাধার ও অভ্যন্তরীণ সড়ক। নতুন ভবনে ছয়টি লিফট, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুবিধা রাখার কথা রয়েছে। ভবনের ভূগর্ভস্থ তিনতলা ও নিচতলায় বড় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে র‍্যাবের নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ যখন এগোচ্ছে, তখন বাহিনীটির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এসেছে। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে বিদ্যমান র‍্যাব বাদ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে।