আজ সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত প্রাক্‌-বাজেট আলোচনা সভায় বক্তাদের একাংশ
আজ সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত প্রাক্‌-বাজেট আলোচনা সভায় বক্তাদের একাংশ

করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব ঢাকা চেম্বারের, করদাতার লাভ কী

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ ছাড়া সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও আছে।

আজ সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত প্রাক্‌-বাজেট আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব করা হয়।

ঢাকা চেম্বার বলেছে, দেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ করজালের বাইরে থাকায় সরকার প্রতিবছর বড় পরিমাণে রাজস্ব হারাচ্ছে। কর পদ্ধতির অটোমেশন ও সহজ করার মাধ্যমে সম্ভাব্য করদাতা শনাক্ত করা ও করজাল বাড়ানো সম্ভব।

করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করলে কী লাভ

বর্তমানে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। মোটাদাগে এর মানে হলো কোনো করদাতা বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কম আয় করলে তাঁকে কর দিতে হয় না।

করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করা হলে বিপুলসংখ্যক করদাতাকে কর দিতে হবে না। এ শ্রেণি মূলত সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির করদাতা।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। এতে অনেক করদাতার প্রকৃত আয় কমছে। এখন যদি করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো না হয়, তাঁদের ভোগান্তি বাড়বে। এমনিতে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খরচ বাড়ছে। আবার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো না হলে করের টাকাও দিতে হবে।

করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা হলে এই সীমিত আয়ের শ্রেণির করদাতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

ঢাকা চেম্বারের অন্যান্য প্রস্তাব

আজকের অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নের জন্য ২৩টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ করা আমদানি ও ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে উৎপাদনকারীদের আগাম কর পর্যায়ক্রমে বাতিল এবং বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে তা কমানো।

এ ছাড়া ভ্যাট সংগ্রহকে আধুনিক করতে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ চালু করার এবং অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে কেবল চূড়ান্ত মূল্যের ওপর ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ভ্যাট ফেরত বা রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি ‘সিঙ্গেল স্টেপ’ বা এক দরজায় সব সেবা এমন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের জিইডি সদস্য মনজুর হোসেন ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীরতর হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন আমাদের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে।’

এই প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর, সময়োপযোগী এবং বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে এমন প্রত্যাশা করি।