জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার খাওয়ার বড়ি কিনবে সরকার। এ টাকা খরচ করে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার চক্র খাওয়ার বড়ি আনা হবে। প্রতি চক্র বড়ির দাম পড়ছে ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা। এখানে ‘চক্র’ বলতে একজন নারীর এক মাসের ব্যবহারের জন্য একটি পূর্ণ প্যাকেট বা কোর্স বোঝানো হয়েছে।
আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়।
‘সমাপ্ত ৪র্থ সেক্টর কর্মসূচির অত্যাবশ্যকীয় পরিবার পরিকল্পনা, মা, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অসমাপ্ত কার্যাবলি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এসব খাওয়ার বড়ি কেনা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
ক্রয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, খাওয়ার বড়ি সংগ্রহে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রতিটি প্যাকেজে একটি করে দরপত্র জমা পড়ে। দুটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্র যাচাই-বাছাইসহ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়ন কমিটি একমাত্র দরদাতা রেনাটা পিএলসিকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে। ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩য় প্রজন্মের খাওয়ার বড়ির প্রতি চক্রের মূল্য ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতি চক্র ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা বলতে একজন নারীর এক মাসের ব্যবহারের এক প্যাকেট বড়ির দাম ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা বোঝানো হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে প্রায় ৩৯ শতাংশ সক্ষম দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণের খাওয়ার বড়ির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে যে পরিমাণ বড়ি মজুত আছে, তা দিয়ে এক মাসের কম সময় বিতরণ করা সম্ভব হবে। এ কারণে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নতুন করে বড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।