
নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টন।
গত বছর রোজার আগে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টন।
রোজায় ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় এক লাখ টন।
দেশের বাজারে শুধু রোজায় ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় এক লাখ টন। তাই রোজার চাহিদাকে সামনে রেখে প্রায় দুই মাস আগেই ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ মিলিয়ে এবার রোজার বাজারে ছোলার সরবরাহ ভালো। সরবরাহ বেশি থাকায় ছোলার দাম কম থাকবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এবার রোজার বাজার ধরতে গত নভেম্বরে ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টন। গত বছর রোজার আগে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টন। সেই হিসাবে গতবারের তুলনায় ২২ শতাংশ বা ৩৬ হাজার টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে এবার।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ছোলার আমদানি হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি নেই। সরবরাহ ভালো থাকায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম। ডলার–সংকট না থাকায় ছোলার আমদানি আগের চেয়ে বেড়েছে। ক্রেতারাও বলছেন, এবার নির্বাচনের প্রভাবে বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল তাঁদের। তবে আপাতত সেটি হয়নি।
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এখন পুরোদমে চলছে রোজার পণ্যের বেচাকেনা। বাজারটি ঘুরে ও সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের এ সময়ে পাইকারিতে প্রতি কেজি ছোলার দাম ছিল ৯২ থেকে ১০৫ টাকা। এবার সেই দাম ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে রয়েছে। রোজার প্রথম সপ্তাহের পর দাম আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা।
যে কারণে দাম কম
এবার আমদানি হওয়া ছোলার ৯৮ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। ভারত থেকে আমদানি হয় বাকি ২ শতাংশ। ভারত থেকে আমদানি হওয়া ছোলা মূলত কাবলি ছোলা। অস্ট্রেলিয়া থেকে ছোলা আমদানি হয় কনটেইনারে। তাতে পরিবহন খরচ বেশি থাকে। তবে এবার বেশির ভাগ, অর্থাৎ আমদানির ৬৫ শতাংশ ছোলা এসেছে বাল্ক জাহাজে। মানে জাহাজের খোলে বোঝাই করে পুরো জাহাজভর্তি ছোলা আমদানি করা হয়েছে। তাতে পরিবহন খরচ কমেছে।
গত বছর পাইকারিতে প্রতি কেজি ছোলার দাম ছিল ৯২ থেকে ১০৫ টাকা। এবার ৭৫ থেকে ৮২ টাকা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হওয়া প্রতি কেজি ছোলার গড় মূল্য ৫৪ সেন্ট বা প্রায় ৬৬ টাকা। অস্ট্রেলিয়া থেকে ছোলা আমদানি হয়েছে মানভেদে কেজিপ্রতি ৫৩ থেকে ৮৫ টাকায়। আবার ভারত থেকে আমদানি হওয়া কাবলি ছোলার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮৫ টাকা ১৫৮ টাকা পর্যন্ত।
রোজার তিন দিন আগে বন্দরে ভিড়েছে ৩৩ হাজার টন ছোলাবাহী জাহাজ ‘সিএস কসমস’। ১৫ ফেব্রুয়ারি বন্দরে আসা জাহাজটি থেকে ছোলা খালাস শুরু হয়েছে। তার আগে ‘ইন্ডিগো এসডব্লিউ’ জাহাজে আমদানি করা হয় ৩৩ হাজার টন ছোলা। এভাবে রোজার আগে অনেকগুলো বাল্ক জাহাজে ছোলা আমদানি হয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানেই ছোলার সরবরাহ রয়েছে। বাজারে মূলত অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ছোলার সরবরাহ বেশি। অস্ট্রেলিয়ান ছোলা গত বছর রোজার সময় ৯২ থেকে ১০৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এ বছর সেটি অন্তত ২০ টাকা কমেছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর, কাস্টমস ও ভ্যাটবিষয়ক সম্পাদক রাইসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত দেড় লাখ টনের বেশি ছোলা বাজারে এসেছে। ফলে বাজারে কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম বাড়ার সুযোগও কম। রমজান মাসজুড়ে ছোলার বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন।
খুচরায়ও দাম পড়তি
এ বছর রোজার আগে দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের পর সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকে আগেই ছোলা কিনে নিয়েছেন। ফলে বাজারে দূরের ক্রেতা কম।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে ছোলা সরবরাহ হয় নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, মোহরা, স্টিলমিল বাজারসহ পুরো নগরে। নির্বাচনী প্রচারণার কারণে নিত্যপণ্যের সরবরাহশৃঙ্খল বিঘ্নের আশঙ্কা করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকেরা। ফলে দূরের খুচরা ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে উপজেলার পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের আগেই ছোলা কিনে নিয়ে যান।
চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, এবার ছোলার সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। সরবরাহ–সংকটের অজুহাতে দাম বাড়ানোর সুযোগও কম।