অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ শুরু হয়েছে আজ রোববার। সকালেই শুরু হচ্ছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। গত সপ্তাহের শেষ দিনে শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামায় নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। তাই এ সপ্তাহে কোন কোম্পানির দাম বাড়ল ও কোন কোম্পানির দাম কমল, তা জানতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা, ভ্রমণ ও প্রবাসী আয় আনতে ব্যাংকে চলবে বিদেশি মুদ্রার বিনিময়। ফলে মুদ্রার বিনিময় হার কত, তা–ও জানতে চাইবেন বিনিয়োগকারীরা।
সঞ্চয়কারীদের আগ্রহ আছে আমানত ও ঋণের সুদহার নিয়ে।
কিছুদিন ধরেই সোনার বাজারে দামের ওঠানামা আছে। সর্বশেষ গত বুধবার সোনার দাম বেড়েছিল। এ ছাড়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন জিনিসের দাম কত, তা নিয়েও আগ্রহ আছে।
এবার সপ্তাহের শুরুতে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের এসব সূচক ও দাম কোথায় আছে, তা দেখে নিই।
গত সপ্তাহ শেষে শেয়ারবাজারের সব কটি সূচক নিম্নমুখী ছিল। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ পয়েন্ট হয়েছে।
অন্যদিকে ডিএস–৩০ সূচক ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৪ পয়েন্টে থেমেছিল। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে প্রায় ৭২৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। আজ রোববার এসব সূচকের অবস্থানকে ভিত্তি ধরেই শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হবে।
কয়েক দিন ধরে ডলারের দাম ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ডলারের দাম ১২৩ টাকা থেকে ১২৩ টাকা ২২ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ডলারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার বাজারে বেশির ভাগ মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ তালিকায় আছে মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউয়ান ও সিঙ্গাপুরি ডলার। দাম কমেছে ইউরো ও অস্ট্রেলীয় ডলারের। অপরিবর্তিত ছিল ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের।
তবে খোলাবাজারে বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হয়। ব্যাংকভেদেও দাম ওঠানামা করতে পারে।
সঞ্চয়কারী ও ঋণ গ্রহণকারীদের জন্য সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ। আজ যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন কিংবা আমানত জমা রাখবেন, তাঁদের সুদের হার জানা প্রয়োজন। কারণ, সুদের হারের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেন গ্রাহকেরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, ব্যাংক খাতে ঋণের ওপর গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর আমানতের ওপর গড় সুদহার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
তবে ব্যাংক ও স্কিমভেদে আমানতের সুদের হার ওঠানামা করে। যেমন দীর্ঘ মেয়াদে এফডিআর রাখলে তুলনামূলক সুদের হার বেশি, যা অনেক ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি। আবার চলতি হিসাবের সুদের ৪–৫ শতাংশের মতো।
অন্যদিকে ব্যাংকভেদে ও ঋণের ধরনভেদে সুদের হারও ওঠানামা করে। যেমন এসএমই ঋণের সুদের হার কম আর ব্যক্তিগত ঋণ ও শিল্পঋণের সুদের হার ১৩–১৪ শতাংশ পর্যন্ত হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারেও সোনার দাম ওঠানামা করে। বুধবার সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। দাম সমন্বয়ের কারণে ২২ ক্যারেটের এক ভরি ভালো মানের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লাগে নিত্যপণ্যের বাজারে। গত সপ্তাহেও এর প্রভাব দেখা গেছে।
বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছে না, কেজি ২০০ টাকার আশপাশে। ডিমের দাম ডজনপ্রতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিমের দাম এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। কোথাও কোথাও খুচরা দোকানে এর চেয়ে কিছুটা বেশি দামে ডিম বিক্রি হয়।
৩০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক (অক্টোবর–ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে নীতি সুদহার আগের মতোই রাখা হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার আগের মতোই সাড়ে ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর মাসের রপ্তানির তথ্য জানিয়েছে। এতে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩৯৪ কোটি ডলারের পণ্য। এদিকে গত মাসে দেশে ২৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে। গত মাসে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় উভয়ই গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারে। গত সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে সপ্তাহ শেষে তা আবার কমে যায়।
নতুন শুরু হওয়া সপ্তাহে সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করতে পারে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছিল। এখন সেপ্টেম্বরে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরে মূল্যস্ফীতির চিত্র কী হবে, তা জানার আগ্রহ থাকবে মানুষের।