জুলাই–এপ্রিল বাস্তবায়ন

প্রকল্পের ২৫% টাকা খরচ করতে পারেনি ১১ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

চলতি বছরে সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এই প্রকল্পের কাজ করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ১০ মাস (জুলাই–এপ্রিল) পেরিয়ে গেলেও একটি টাকাও খরচ করা যায়নি।

আবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পে ৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা গত ১০ মাসে মাত্র ৬৯৩ টাকা খরচ করতে পেরেছেন। বাস্তবায়ন হার ২২ শতাংশ।

এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৪টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ আছে ১৩৫৪ কোটি টাকা। ১০ মাসে খরচ মাত্র ২৩৯ কোটি টাকা। এই বিভাগের বাস্তবায়ন হার প্রায় ১৮ শতাংশ।

অর্থবছরের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি নেই। ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের পুরো বছরের বরাদ্দের ২৫ শতাংশও খরচ করতে পারেনি।

আজ শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

তালিকায় কারা আছে

এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের বরাদ্দের ২৫ শতাংশ খরচ করতে পারেনি। এগুলো হলো—সংসদবিষয়ক সচিবালয়; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ; স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; জননিরাপত্তা বিভাগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি); নির্বাচন কমিশন সচিবালয়; আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

১০ মাসে বাস্তবায়ন ৪১%

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রথম ১০ মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে।

ওই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন হার ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময় ৯৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা খরচ হয়।

চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে এমনিতেই সক্ষমতার অভাব আছে। এ ছাড়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যাচাইবাছাই করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও টাকা খরচে কিছুটা কৃচ্ছ্র সাধনের কারণে প্রভাব পড়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।