নতুন অর্থবছরে দেশের ১০০টি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে। মংস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিদেরও এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে এবং দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা প্রতিবছর একবার আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরও ১০ ধরনের বহুমুখী সুবিধা পাবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য কৃষিবিমা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে তফশিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষি ও পল্লিঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। এ ছাড়া আমদানি–নির্ভরতা কমাতে ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণ চাষে ৪ শতাংশ এবং পার্বত্য জেলায় কৃষকদের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।