
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক অর্জন করা। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, স্পোর্টস অর্থনীতি ইত্যাদিকে বিবেচনা নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়ানোর জন্য কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাসী আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সব কটি দিক একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার।
বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরকার জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অত্যধিক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত অর্থায়নে সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তাসহ জ্বালানি সাশ্রয়ে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতা, পণ্যমূল্যের চাপ, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বিগত সময়ে সৃষ্ট নানা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেও দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। আরও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অর্থনীতির ভিত মজবুত করা, মানুষের কষ্ট লাঘব করা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।