রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে একটি দোকান থেকে সবজি কিনছেন ক্রেতা মিজানুর রহমান। আজ শনিবার সকালে
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে একটি দোকান থেকে সবজি কিনছেন ক্রেতা মিজানুর রহমান। আজ শনিবার সকালে

ঈদের পর সবজি, মাছ–মাংসের বাজার স্থিতিশীল, ক্রেতাও কম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রিং রোডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। তিনি সবজি কিনতে আজ শনিবার সকালে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে যান। দুটি দোকান ঘুরে তিনি চার ধরনের সবজি কেনেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরেও একবার মিজানুর এই বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু পুরো বাজারে তখন মাত্র একটি সবজির দোকান খোলা ছিল। সেখান থেকে আধা কেজি ঢ্যাঁড়স কিনেছিলেন ৬০ টাকায়। আজ অন্যান্য সবজির সঙ্গে আবার ঢ্যাঁড়স কিনেছেন; তবে বিক্রেতা আধা কেজির দাম রেখেছেন ২০ টাকা।

সবজি নিয়ে ফেরার পথে প্রথম আলোকে মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে সর্বশেষ সবজি কিনেছিলাম। টাটকা সবজি কেনার জন্য গতকাল বাজারে এসেছিলাম। কিন্তু দাম বেশি ছিল। আজ কম দামে টাটকা সবজি পেয়েছি।’

ঈদুল আজহার আজ তৃতীয় দিন। রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারগুলোতে এখনো বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। যেসব ব্যবসায়ী দোকান খুলেছেন, তাঁরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কারণ, ক্রেতা কম। তবে টাটকা সবজির খোঁজে বা জরুরি প্রয়োজনে মিজানুর রহমানের মতো কিছু ক্রেতাকে বাজারে আসতে দেখা গেছে।

রাজধানীর বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ এসেছে। তবে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম।

আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের পর বাজার এখনো জমেনি। ঈদের কারণে তিন দিন সবজির সরবরাহ একরকম বন্ধ ছিল। দোকানে থাকা আগের আনা সবজিই বিক্রি করেছিলেন বিক্রেতারা। তবে গতকাল রাত থেকে সবজির সরবরাহ আসতে শুরু করেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ২০টির বেশি সবজির দোকান রয়েছে। আজ সকালে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র আটটি সবজির দোকান খোলা। কৃষি মার্কেটে মাছের দোকান রয়েছে ৫০টির মতো। কিন্তু আজ সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা দেখা গেছে মাত্র ১১টি দোকান। কৃষি মার্কেটে বাজারে গরুর মাংস বিক্রির সব দোকান বন্ধ। তবে একটি খাসির ও পাঁচটি মুরগি বিক্রির দোকান খোলা ছিল। বন্ধ ছিল মুদিপণ্যের অধিকাংশ দোকান।

কৃষ মার্কেট থেকে টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজারে যান এই প্রতিবেদক। সেখানেও অনেকটা কাছাকাছি চিত্র দেখা গেছে। অবশ্য তিনটি বাজারেই বেশ কয়েকটি ফলের দোকান দেখা গেছে। এসব দোকানে ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

দরদামের কী অবস্থা

বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দামই স্থিতিশীল দেখা গেছে। সাধারণত ঈদের তিন-চার দিন কাঁচা মরিচ, শসা, গাজর, টমেটোর চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় এসব পণ্যের সরবরাহের ঘাটতি থাকলে দাম বাড়ে।

তবে আজ বাজার গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় এসব পণ্যের দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি টমেটো ১০০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, গাজর ১৮০-২০০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগেও দাম এমনই ছিল।

ঈদুল আজহার পরপর মুরগি, গরু, খাসি প্রভৃতির চাহিদা কমে যায়। ফলে দামেও এর প্রভাব থাকে। আজ বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৭০-৩৮০ টাকায়। হাইব্রিড ধরনের সোনালি হলে দাম আরও ২০ টাকা কম। এ ছাড়া ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকায়। ঈদের আগের সপ্তাহে ব্রয়লারের কেজি ছিল ২০০ টাকা আর ডিমের ডজন ছিল ১৫০ টাকা।

বাজারে মাছের সরবরাহ একেবারেই কম বলা চলে। ইলিশের মতো আগে থেকে সংরক্ষণ (হিমায়িত) করে রাখা মাছ বেশি দেখা গেছে। নতুন সরবরাহ এসেছে শুধু পাঙাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, চিংড়িসহ ৭-৮ প্রজাতির মাছের। এর মধ্যে পাবদা মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ ও পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০-৮০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগেও এমন দামেই সবজি বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে প্রতি পিস লাউ ৫০-৭০ টাকা, প্রতি কেজি চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ধুন্দল, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা এবং কাঁকরোল, করলা ও বরবটি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজারে লালশাক, পাটশাক, পুঁইশাকসহ কয়েক ধরনের শাকও দেখা গেছে। তবে পরিমাণে কম। এসব শাকের দাম সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রতি আঁটিতে ৫-১০ টাকা বেশি রয়েছে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের পরে আবহাওয়া ভালো, বৃষ্টি নেই। সবজির নতুন সরবরাহও এসেছে। এ কারণে দাম বাড়েনি। তবে ক্রেতা বেশ কম।