এসএমই ফাউন্ডেশন
এসএমই ফাউন্ডেশন

বাজেট ২০২৬–২৭

এসএমই খাত ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবে

  • দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৭ লাখ কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

  • এই খাতের প্রায় ৬০% উদ্যোক্তাই প্রথাগত ব্যাংকঋণের আওতার বাইরে আছেন।

  • আগামী ৫ বছরে এসএমই খাতে ৩০ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য সরকারের।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন-সংকট দূর করতে অর্থমন্ত্রী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃ অর্থায়ন ঋণ তহবিল ঘোষণা করেছেন। এ তহবিল থেকে এসএমই উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ পাবেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি জানান, সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য এসএমই, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃ অর্থায়ন কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারের তিনটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার কোটি টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ করা হবে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৭ লাখ কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ উদ্যোক্তাই প্রথাগত ব্যাংকঋণের আওতার বাইরে রয়েছেন। কারণ, ব্যবসায় নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বা ভ্যাটের কাগজপত্র না থাকায় তাঁরা ব্যাংকিং-সুবিধা পান না। ব্যাংকগুলোও ছোট ব্যবসায়ে ঋণ দিতে উৎসাহী নয়।

সরকার তিনটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশন, ইডকল ও বিআইএফএফএলের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করবে।

এসএমই খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সিএমএসএমই খাতের এই বিশাল অংশকে ঋণের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার বাজেটে দুই হাজার কোটি টাকার যে বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে, তা ইতিবাচক। তবে ঋণের টাকা যেন সুষমভাবে বণ্টন করা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তহবিল চেয়েছিল শিল্প মন্ত্রণালয়

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসএমই খাতের জন্য আগামী দুই অর্থবছরে মোট তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ ‘ঋণ তহবিল’বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে গত ২১ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরে এক হাজার কোটি এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে আরও দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়।

চিঠিতে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আগামী ৫ বছরে এসএমই খাতে ৩০ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। নতুন তহবিল পাওয়া গেলে এই কর্মসূচি দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

তবে শিল্পমন্ত্রী শুধু এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে এই অর্থ চাইলেও বাজেট প্রস্তাবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন প্রতিষ্ঠান কত অর্থ পাবে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, এসএমই খাতের জন্য ঘোষিত দুই হাজার কোটি টাকার তহবিলের বিষয়ে আগামী জুলাই বা আগস্ট মাসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনসহ (পিকেএসএফ) আরও দু-একটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বাজেট তহবিলের অর্থ যে প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে, তাদের নিজেদেরই সরাসরি উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই ঋণ বিতরণ করতে হবে। এ ছাড়া সব খাতের এমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্যই এই ঋণ উন্মুক্ত থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার ৫ শতাংশের মধ্যে বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যমান এসএমই ঋণের অবস্থা

এসএমই খাতে করোনা মহামারির ধাক্কা কাটাতে ২০২১ সালে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা দিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ৩০০ কোটি টাকা পায়। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এসএমই ফাউন্ডেশন ৪ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন এই ঋণ বিতরণ করে। ঋণের টাকা ফেরত এলে পরে একটি ঘূর্ণমান তহবিল গঠন করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে ঋণ দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এসএমই উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংকগুলো অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায় না। ফলে সিংহভাগ ঋণ পান মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তারা। নতুন তহবিলের ক্ষেত্রেও যেন এমনটা না হয়।

বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি রাশেদুল করিম বলেন, তহবিলের অর্থ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কটেজ, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের আলাদা কোটা নির্ধারণ করে দিতে হবে। অন্যথায় এই ঋণের সুবিধা সাধারণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে না; এটি কেবল তেলে মাথায় তেল দেওয়ার মতোই হবে।