জাহিদ হোসেন
জাহিদ হোসেন

অভিমত: জাহিদ হোসেন

সংস্কার থেকে পিছু হটলে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে

দেশের অর্থনীতি একটা জটিল সময় পার করছে। সূচকগুলোর দিকে ভালোভাবে তাকানো যায় না। এর মধ্যে একটা সূচক দেখলাম যে বেশ ভালো। সেটা হচ্ছে প্রবাসী আয়। তবে এই ভালো নিয়েও দুঃসংবাদ থাকতে পারে। যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরতে হতে পারে ভেবে প্রবাসীরা পুরো সঞ্চয় পাঠিয়ে দিচ্ছেন কি না, তা ভাবনার বিষয়। কোভিডের সময় কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেছিল।

আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়। ওই সময়ই রাজস্ব খাত ও ব্যাংক খাত সংস্কারের শর্ত ছিল। এরপর এল অন্তর্বর্তী সরকার, যে সরকার অনেক কিছুই পারেনি। তবে ভালো দিক যে উভয় খাতের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দুটি অধ্যাদেশ জারি করে গেছে।

আইএমএফের সঙ্গে চলমান কর্মসূচির আওতায় জ্বালানি তেলের মূল্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সমন্বয় হওয়ার কথা। এ মাসে তা হয়নি। যদিও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে  তিনি সমন্বয়ের পক্ষে। সম্পাদিত সংস্কার, যা ইতিমধ্যে করা হয়ে গেছে, তা থেকে পিছু হটলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবেই ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ হয়েছে, যার অধীনে হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। সরকার এতে ২০ হাজার কোটি টাকাও দিয়েছে। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হওয়া জরুরি। আইন না হলে আগের মালিকপক্ষের আদালতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রেজোল্যুশন অধ্যাদেশটিকে সংশোধন করে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবু হোক।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলোপ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই বিভাগ করার যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তা ছিল রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের কম। চলতি অর্থবছর শেষে তা বেশি ভালো হওয়ার লক্ষণ কম। আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচিতে কর-জিডিপি হার বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ছিল। পাশাপাশি ছিল করছাড় কমিয়ে আনার কথা। নিশ্চয়ই এগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠবে আইএমএফের বৈঠকে। আবার শোনা যাচ্ছে, আইএমএফ থেকে বাড়তি অর্থও চাওয়া হবে।

চলতি মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকে একটা কথা বলে এলাম, আর জুনে বাজেট করার সময় মত পাল্টে আরেকটা করে ফেললাম, তা করলে ঋণ কর্মসূচিটি ঝুলে যেতে পারে। আইএমএফের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া দলটি অনুমান করতে পারছে কি না জানি না। সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি অর্থ চাইলে বাড়তি শর্তের মধ্যেও ঢুকতে হবে।

 জাহিদ হোসেন: সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক, ঢাকা কার্যালয়