
আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে রাত আটটায় দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
এ সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটে দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। লোডশেডিং এবং রাত আটটায় বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে, ব্যবসায়ের ক্ষতি বাড়ছে।
এ অবস্থায় দেশের সব মার্কেট ও বড় বিপণিবিতানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।
বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণসহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, স্বল্প সুদে এই ঋণসহায়তা পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপণিবিতানগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার ও হেজাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, আব্দুল মোতালেব রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ হারুন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলামসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাত আটটায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং সন্ধ্যা ছয়টা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুততম সময়ে সোলার প্যানেল স্থাপনই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনসংক্রান্ত ১০ দফা দাবি জানায় দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বিপণিবিতানে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর মেয়াদে মাত্র ২ শতাংশ সুদে (কিস্তিভিত্তিক) ঋণ প্রদান করতে হবে। সোলার প্যানেল যেন মানসম্পন্ন হয়, সে জন্য বিএসটিআই ও ইডকলের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
সোলার প্যানেল স্থাপনের পর লাইসেন্স ফি ও সার্ভিস চার্জ প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমিতি। উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সাড়ে ১০ শতাংশ হারে জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ আরও সহজ ও জোরালো করার দাবি সংগঠনটির।
অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির যৌথ চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন নিশ্চিত করা; সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম তদারকি এবং যেকোনো সমস্যা ও দুর্বলতা নিরসনে তিন মাস মেয়াদি একটি শক্তিশালী রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা; ব্যক্তিমালিকানাধীন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা জেলা পরিষদের অধীনে থাকা যেসব মার্কেট কাঠামোগত অনুমোদনের জটিলতায় আছে, সেগুলোর সোলার প্যানেল স্থাপনের আবেদন সহজ করা; সোলার প্যানেল স্থাপনের খরচ বহন ও ঋণ পরিশোধের জন্য একটি টেকসই তহবিল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে ব্যবসায়ীদের জন্য রাত আটটায় দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এই বিদ্যুৎ–সংকটের দীর্ঘ সময় আর ভুগতে রাজি না। বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যন্ত আমাদের বিপণিবিতান আছে। বিপণিবিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে এবং ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলের ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটকে বিদ্যুৎ বিল দিতেই হবে না। উল্টো আমরা বন্ধের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব।’
হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘যদি মাত্র ২ শতাংশ সুদে ৫ বছর অথবা ৭ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হব।’