বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে
বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে

বাজেট–উত্তর সংবাদ সম্মেলন

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ৪র্থ বছরে: অর্থমন্ত্রী

ঋণনির্ভরতার বদলে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যেতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, মূল্যস্ফীতি কমানোসহ সার্বিক অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতেই তা দরকার। তবে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে গেলে বিনিয়োগ করতে হবে, নইলে বিনিয়োগ আসবে না। সরকার এ পর্যন্ত যেসব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেগুলোর ৮০ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি পৌঁছে যাবে নতুন উচ্চতায়। এদিকে যে অর্থনীতি আছে, তা ঠিকঠাক করতে দুই বছর সময় লেগে যাবে। চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার বাজেট–উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে মানুষ সংগ্রাম করেছে। এরপর এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সংগ্রাম, যাতে অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। অনেকে হারিয়েছেন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি। দেড় দশকের পর এসেছে দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়গুলোর বাজেটে জনগণের চিন্তার তেমন প্রতিফলন ছিল না। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার তাই শ্রেণি–পেশা–ধর্মনির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রেখে বাজেট করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সংগ্রাম, যাতে অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। অনেকে হারিয়েছেন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি। দেড় দশকের পর এসেছে দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়গুলোর বাজেটে জনগণের চিন্তার তেমন প্রতিফলন ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দেড় দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আছে সম্পদের সীমাবদ্ধতা। এমন বাস্তবতায় একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট করা কঠিন বিষয়। তারপরও যতটা সম্ভব এ বাজেট করা হয়েছে সবার জন্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটের স্লোগানই হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ। আগে অর্থনীতি ছিল কিছু গোষ্ঠীর জন্য। সেই জায়গা থেকে অর্থনীতিকে আমরা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। এ কারণে প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট করা হয়েছে। কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে নেই।’

কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে বাজেটকে কালো করে ফেলা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব দিতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে দায়িত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ছোট একটা বিধান গত বছর করা হয়েছিল, সেটাই আছে। তবে মৌজামূল্যে জমি বিক্রির ফলে অনেক সময় টাকা কালো হয়ে পড়ে। সেই টাকার ওপর ২০ শতাংশ কর দিয়ে সাদা করার সুযোগ আছে। সরকার চাইলে এটা দেখতে পারে।

তখন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মৌজামূল্য জমির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম থাকে। এ বিষয়টা দেখার সময় পাইনি। এটা একটা বিরাট কাজ। একটা জরিপ করা হবে।’

বাজেটের স্লোগানই হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ। আগে অর্থনীতি ছিল কিছু গোষ্ঠীর জন্য। সেই জায়গা থেকে অর্থনীতিকে আমরা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। এ কারণে প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট করা হয়েছে। কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে নেই
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে

অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, কমার কথা। কারণ, অভাব থাকলে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। ১১ বছর ধরে নতুন বেতনকাঠামো হয়নি। অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এগুলোকে ‘অ্যাড্রেস’ করতে হবে। আশা করা হচ্ছে বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে।

ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, করের আওতা অনেক বড় হবে এবং ফ্ল্যাট রেটের (একই হার) মাধ্যমে সবাই চলে আসবে করের আওতায়। এবারের বাজেট কোনো দলের জন্য করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতে কোনো দলীয় লোক নিয়োগ করা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, তাতেও বিএনপির দলীয় নেতা–কর্মীদের যুক্ত করা হয়নি। সমীক্ষা করে দেখা হয়েছে, সব দলের লোকই কার্ড পাচ্ছেন।

লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে তহবিল খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক পড়েছে মূল্যস্ফীতির ওপর। আবার বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানি করা সব পণ্যের দামই দেশের বাজারে বেড়ে যাচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি তিন মাসের বিষয় নয়

মূল্যস্ফীতি পুলিশ, র্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক নীতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। মূল্যস্ফীতি তিন মাসের ব্যাপার নয়। এটি বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। তিন মাস ধরে তা ৯ শতাংশের ওপরে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বন্দরগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও বাড়তি খরচ কমাতে পারলে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্দর থেকে পণ্য খালাস হয়, এতে বিভিন্ন কারণে বেশি খরচ করতে হয়।

লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে তহবিল খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক পড়েছে মূল্যস্ফীতির ওপর। আবার বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানি করা সব পণ্যের দামই দেশের বাজারে বেড়ে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সহজে ব্যবসা করার সূচক মানদণ্ডে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ একেবারে তলানিতে। এর অর্থ হলো আমাদের ব্যবসায়ের খরচ অনেক বেশি। একটি অনুমতি পেতে বা কোম্পানি করতে ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে যায়। অনেক দপ্তরে যেতে হয়, সময় নষ্ট হয়। এই প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে।’

নীতিমালা বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা বিনিয়োগ নীতিমালা হচ্ছে। তবে নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নইলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা জরুরি। এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। নীতিমালার বাস্তবায়ন তদারকিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। সাত দিনের পর আট দিন হলেই কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কার্যালয়ে বিশেষ ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি খাতে দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। গ্যাস পেতে খননকাজ করা হয়নি। বাপেক্সকে অবশ করে রাখা হয়েছিল। অথচ প্রতিবেশী দেশ সমুদ্র থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে তা রপ্তানি পর্যন্ত করেছে।

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে করা চুক্তি, অব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে বর্তমান সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ আনতে গ্যারান্টি দিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ চালু করা হয়েছিল। চুক্তিগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থই বেশি সংরক্ষিত হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অর্ডার দেওয়া পাঁচ লাখ ডিজিটাল মিটারের মধ্যে আড়াই লাখ দেশে এসেছে। তিন বছরে ৬৫টি মিটার বসলেও বাকিগুলো গুদামে পড়ে আছে। অথচ পরে বাকি আড়াই লাখ মিটারও আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার এটা বাতিল করলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আদালতে গেলে জিতে যেতে পারে।

সরকারকে ঋণ দেওয়ার কথা নয় ব্যাংকের

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক চিন্তা বদলে গেছে। অর্থায়নের নকশা আগের মতো নেই। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া গতানুগতিক পদ্ধতি। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর তো বেসরকারি খাতকে ঋণ দেওয়ার কথা, সরকারকে নয়। তবে এবার একটা প্রবণতা চালু করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এটা নিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে।

এ বিষয়ে অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে আনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জন্য এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য তা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। অর্থায়নের জন্য সুকুক বন্ডকে গুরুত্বপূর্ণ উপায় উল্লেখ করে অর্থসচিব বলেন, বন্ড বাজারের উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। একে মূলধারার অর্থনীতির মধ্যেও আনা হবে। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব পণ্যের আধুনিক নকশা ও বাজারমূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইনিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো সম্পৃক্ত হবে। চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, সংগীত—এসব নিয়ে ‘সফট পাওয়ার’ নেই বলে আক্ষেপ করেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যাংক খাত নিয়ে যা বললেন গভর্নর

ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু টুলস আছে, যা আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করব। আমানতকারীদের টাকা তুলতে কোনো অসুবিধা হবে না। এ ব্যাংকের জন্য জরুরি তারল্য সহায়তা যা দেওয়ার প্রয়োজন, তা দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পাঁচজনের পরিচালনা পর্ষদ ছিল। এর মধ্যে কিছু অভিযোগের কারণে একজনকে বদলানো হয়। ২০২৪-এর জুলাইয়ে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর ছিল ৯৩ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯৭ শতাংশ। অথচ নির্ধারিত সীমা ৯২ শতাংশ। এটি কমিয়ে আনতে হবে।

ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, যারা ব্যাংকের টাকা চুরি করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কঠিন। বিশ্বে এই হার মাত্র ২ শতাংশ। টাকা ফেরত আনতে জোরেশোরে কাজ হচ্ছে। কিছু টাকা ফেরত এসেছে।

একীভূত পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারের জবাব দেন গভর্নর। বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে দেখলাম, আলোচনা হচ্ছে একীভূত ব্যাংক টিকবে কি না। তখন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন, এমডি যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করলেন। এরপর পরবর্তী চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ সভাও করেছে। শিগগির তাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের একীভূত কার্যক্রম শুরু হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘একদল মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখল, আরেক দল চুরি করে নিয়ে গেল। এখন করদাতাদের টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকে মূলধন জোগান দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমরাও শঙ্কায় থাকি।’

গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়ে আলোচনা চলছে যে তিনি ঋণখেলাপি কি না। এর জবাব দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘যোগ দেওয়ার শুরু থেকেই এটা (ঋণখেলাপি) শুনে আসছি। আমার একটা পরিবেশবান্ধব কারখানা ছিল। এই কারখানা কোনো দিন বন্ধ হয়নি, রপ্তানিও কোনো দিন বন্ধ হয়নি। শ্রমিকের বেতন কখনো বাকি পড়েনি। কখনো ঋণ মওকুফ হয়নি।’

নিজের ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, প্রথমে ৪ শতাংশ সুদে ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সুদ ৯ থেকে ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসসহ নানা সমস্যার কারণে ঋণ পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে ১০০ কোটি টাকা ঋণ ইতিমধ্যে শোধ হয়ে গেছে।