এনটিএমসির লোগো
এনটিএমসির লোগো

এনটিএমসির জন্য ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে

অতিগোপনীয় ও সংবেদনশীল সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) জন্য ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনছে সরকার। এনটিএমসির কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ (পর্যায়-১)-এর আওতায় সীমিত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ–বিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, এনটিএমসি একটি অতিগোপনীয় ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এ কারণে এনটিএমসির কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত দরপত্র ডাকা হয়। তবে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে তিনটি প্রতিষ্ঠান। রেসপন্সিভ হয় দুটি প্রতিষ্ঠান।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পায় ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত কোম্পানি গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সুপারিশ করা দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর থেকে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, এনটিএমসির কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ (পর্যায়-১)–এর আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল ডিভাইস, দুটি মাল্টি ফাংশনাল হাইব্রিড প্যাকেট ব্রোকার, তিনটি সুইস ম্যানেজমেন্ট কার্ড এবং আংশিকভাবে সংযুক্ত ছয়টি ডেটা সেন্টারের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম রয়েছে।

এনটিএমসি গঠিত হয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ অনুযায়ী। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি এ আইনের সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি হয়। এতে নজরদারি ও আড়ি পাতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের কথা বলা হয়। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংশোধিত আইন করে গত এপ্রিলে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সময় এনটিএমসির মাধ্যমে নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও ফোনে আড়ি পাতা হয়। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ৯৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়ে এনটিএমসি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।