ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়
ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়

৬ মাসে শুল্ক–কর আদায়ে ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) শুল্ক–কর আদায়ে ঘাটতি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছরের মতো শুল্ক–কর আদায়ের ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়ছে এনবিআর।

এনবিআরের হিসাব অনুসারে, গত জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা।

এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকার বেশি। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ চিত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজস্ব আদায়ে গতি নেই

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর—এই তিন খাতের মধ্যে কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জন হয়নি।

আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। ছয় মাসে ঘাটতি হয়েছে ২৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এই খাতে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৮৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এ সময়ে আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।

আমদানি খাতে ছয় মাসে ৬৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। এই খাতে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা।

গত জুলাই–ডিসেম্বরে ভ্যাট বা মূসক আদায় হয়েছে ৭০ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। এ সময়ে এই খাতের লক্ষ্য ছিল ৮০ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় এনবিআরকে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার শুল্ক–কর আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়। পরে তা সংশোধিত লক্ষ্যে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসা–বাণিজ্যে শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে। করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ ও ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করার কাজ করছে এনবিআর।