বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে

রাজধানীতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ওষুধশিল্পের প্রদর্শনী

ভারতের প্রতিষ্ঠান বিলকেয়ার রিসার্চ মূলত ওষুধ প্যাকেজিংয়ের পণ্য তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসিমুক্ত উদ্ভাবনী প্যাকেজিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এই প্যাকেজিং পুনর্ব্যবহার করা যায়। তাই এই প্যাকেজিং পরিবেশবান্ধব। এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অংশ নিয়েছে দেশে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোতে। বিলকেয়ার রিসার্চের এদেশীয় পরিচালক জাহিদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রযুক্তির প্যাকেজিংয়ের খরচ কিছুটা বেশি। তবে এই প্যাকেজিংয়ের উপাদান আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি। এর ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্যাকেজিং প্রযুক্তির উপাদান ব্যবহার করবে, তাদের ওষুধ নকল করা যাবে না।

ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে এই প্রদর্শনী চলছে রাজধানীর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। একই ছাদের নিচে চলছে এশিয়া ল্যাব এক্সপো। এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)। আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী।

এবারের প্রদর্শনীতে ২০টির বেশি দেশের চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে ফার্মাসিউটিক্যাল প্রসেসিং ও প্যাকেজিং প্রযুক্তি, এপিআই ও এক্সিপিয়েন্টস, অ্যানালিটিক্যাল ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, ক্লিনরুম ও এইচভিএসি সিস্টেম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং টার্নকি প্রজেক্ট সেবাসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরা হবে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আরও দুই প্রতিষ্ঠান জেনট্রি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও প্রিসিসা টেকনো ট্রেড লিমিটেড। এর মধ্যে জেনট্রি ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ তৈরির মূল কাঁচামাল অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) সরবরাহ করে। আর প্রিসিসা টেকনো ট্রেড প্রতিষ্ঠানটি ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্নকি প্রজেক্ট বা সম্পূর্ণ প্রকল্প সমাধান দেয়। দেশের ৮০টির বেশি ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে এই দুই প্রতিষ্ঠান।

প্রদর্শনীতে প্রিসিসা টেকনো ট্রেডের ব্যবসা উন্নয়নের প্রধান তাহমিদ হাসান বলেন, ‘একটি ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরির নকশা থেকে উৎপাদনে যাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একটি ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে ৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। আমাদের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ চীন, ইউরোপ ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়।’

দেশীয় প্রতিষ্ঠান সুইস বায়োহাইজেনিক ইকুইপমেন্ট। ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালসের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ফার্মাসিউটিক্যাল, ভ্যাকসিন, বায়োটেক, হেলথকেয়ার, ফুড ও বেভারেজ শিল্পের জন্য হাইজেনিক পদ্ধতির প্রায় ৬০ ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করে।

সুইস বায়োহাইজেনিক ইকুইপমেন্টের উপব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘দেশে এসব হাইজেনিক যন্ত্র সাধারণত ইউরোপ ও চীন থেকে আমদানি করা হয়। তবে আমরা এসব যন্ত্র নিজেদের নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন করছি। ফলে এসব যন্ত্র আমদানি করার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।’

এ ছাড়া প্রদর্শনীতে ওষুধশিল্পে ব্যবহৃত ব্লেন্ডার, গ্র্যানুলেটর, ট্যাবলেট পাঞ্চিং মেশিন, ক্যাপসুল ফিলিং মেশিন, ফ্লুইড বেড ড্রায়ার, কোটিং মেশিন, প্রেশার ভেসেল, রিঅ্যাক্টর, ফিলিং, প্যাকেজিং মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র। এ ছাড়া এপিআই, এক্সিপিয়েন্টসহ বিভিন্ন কাঁচামালও এই প্রদর্শনীতে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) সেবা দিচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান শিল্পে ব্যবহৃত সুরক্ষাসামগ্রী নিয়েও অংশ নিয়েছে।

‘স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না’

এর আগে সকালে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নানা সংকট রয়েছে। এগুলো ঠিক করতে সবার সহযোগিতা লাগবে। তবে এই খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ওষুধশিল্পে শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। আরও ৩০টি কোম্পানি সংগ্রাম করছে এবং মাত্র ৩০টি কোম্পানি স্থিতিশীল। এটি কোনো শিল্পের জন্য ভালো চিত্র নয়। আগামী দুই বছরে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও মান উন্নয়নে সাহায্য করা হবে। এর জন্য সরকারের সঠিক নীতি সহায়তাও প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার।