
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানি দুটির সম্মিলিত ব্যবসা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস জুলাই-ডিসেম্বরে ইলেকট্রনিক পণ্যের দেশীয় জায়ান্ট ওয়ালটনের মুনাফা ৬০ কোটি টাকা বা ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ৩৬৩ কোটি টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ৩০৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে ওয়ালটনের মুনাফা প্রায় ৬০ কোটি টাকা বা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ গতকাল রোববার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য জানায়। তার আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি
অনুমোদন করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ওয়ালটন ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার চেয়ে ২১৬ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি।
তবে ব্যবসা যতটা বেড়েছে, কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি হারে।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুলাই–ডিসেম্বর ছয় মাসে সুদবাবদ খরচ কমে যাওয়াই ওয়ালটনের মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে কোম্পানিটির সুদবাবদ খরচ কমে ৯৬ কোটি টাকায় নেমেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯৭ কোটি টাকা; অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানিটির সুদবাবদ খরচ ১০০ কোটি টাকার বেশি কমেছে। এই খরচ কমে যাওয়াটাই সরাসরি কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ওয়ালটনের ব্যবসায় যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার বড় অংশই হয়েছে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে। কোম্পানির ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিক্রির গতি কিছুটা কম থাকে মৌসুম পরিবর্তনের কারণে।
অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে ওয়ালটন ব্যবসা করেছে ১ হাজার ৩১১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা; অর্থাৎ অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কোম্পানিটির ব্যবসা ২১ কোটি টাকা কমেছে। একই সময়ে ওয়ালটন মুনাফা করেছে ১৪২ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরের একই ছিল ১৫৫ কোটি টাকা।
জানতে চাইলে ওয়ালটনের কোম্পানি সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত শীত মৌসুমের কারণে বছরের শেষ তিন মাসে ইলেকট্রনিকস খাতে ব্যবসায়ের গতি কিছুটা মন্থর থাকে। অন্যান্য সময় ব্যবসা ভালো হয়। আমরা ব্যবসায় ক্রমাগত ভালো করছি। চলতি অর্থবছরের আরও প্রায় ছয় মাস বাকি। আশা করছি এই সময়ে আমাদের বিক্রি বাড়বে। তাতে বছর শেষে আমরা ব্যবসার ও মুনাফার এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারব।’