বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম উঠেছে ১৩ টাকার ওপরে। এমন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক খামারিদের পক্ষ থেকে রাজধানীর ২০টি স্থানে সরকার নির্ধারিত ১২ টাকা দরে ডিম বিক্রি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তবে এ কার্যক্রম ঠিক কবে শুরু হবে তা ঠিক হয়নি। লিখিত অনুমতিও পাননি পরিকল্পনাকারীরা।
সরকারি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আজ বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদারকে ভোক্তা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে। লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত দেবে।
ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজধানীতে ১২ টাকায় ডিম বিক্রি করার মৌখিক প্রস্তাব এসেছে। আমরা তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে বলেছি। তারপর সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জানানো হবে।’
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সরকার নির্ধারিত দরেই (১২ টাকা) ট্রাকে করে ডিম বিক্রি করবে। তারা রাজধানীর বড় বড় বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ ২০টি স্থানে ডিম বিক্রির পরিকল্পনার কথা ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানিয়েছে। এই ডিম আসবে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে। এ নিয়ে প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে বিপিএর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বিপিএর সভাপতি সুমন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুমতি পেলে আগামী সপ্তাহে ডিম বিক্রি শুরু করতে পারব। কাজটি কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সেই চেষ্টা করছি। এতে খামারিরা যেমন ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনি তা বাজারে মূল্য কমাতেও প্রভাব রাখবে।’
এর আগে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে খোলাবাজারে চিনি বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। এই কার্যক্রমে চিনি উৎপাদনকারীদের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এখন প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনের ব্যানারে ডিম বিক্রির ব্যাপারে মৌখিক প্রস্তাব দেওয়া হলো। তবে ঠিক কীভাবে এই ডিম বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেয়। এরপর বাজার অভিযানে নামে ভোক্তা অধিদপ্তর। তবে বাজারে এসব পণ্য এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দাম কার্যকর হয়নি।
সরকার ইতিমধ্যে ১৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ডিম দেশে এসে পৌঁছায়নি।