‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ক্যাব নেতৃবৃন্দ। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ক্যাব নেতৃবৃন্দ। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।

তদারকির অভাবে বাজারে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে: ক্যাব

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেশি রাখা হচ্ছে। কার্যকর তদারকির অভাবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছেন।

আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ তথ্য জানিয়েছে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ সংগঠনটি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ, ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান প্রমুখ।

ক্যাবের নেতারা বলেন, দেশের বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। বোতলের গায়ে লেখা দামের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও। বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দামও।

সর্বশেষ ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। সে সময় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা দাম (এমআরপি) লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দামও লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ১৬ টাকা বাড়িয়ে ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দেয় ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তবে ক্যাব জানিয়েছে, ওই সময় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ছিল না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ছাড়াই কোম্পানিগুলো তখন দাম বাড়ায়। আগের দাম অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৭০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করা হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উঠেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়ে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকায়।

মানববন্ধনে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোথাও কোথাও বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। এসব অনিয়ম বাজারে তদারকির ঘাটতির প্রমাণ।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের চলমান তদারকি অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভোজ্যতেলের সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে আরও সক্রিয় করার দাবি জানান তিনি।

হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া আরও বলেন, বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের কিছু রিফাইনারির (পরিশোধনকারী কোম্পানি) বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম কমে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানববন্ধন থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরে ক্যাব। এগুলো হচ্ছে—সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করা; সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি এবং অভিযান পরিচালনা করা; কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা এবং ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।