প্রবাসী শ্রমিক
প্রবাসী শ্রমিক

বাজেটে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’সহ আর যা থাকছে

আগামী অর্থবছরে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রবাসীকল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা ও জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে। ফলে প্রবাসীরা এক কার্ডের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা ভোগ করতে পারবেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণাকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে বিএনপি সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ধরে রাখতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, নতুন বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কিছু পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

নতুন সাত শ্রমবাজারের পরিকল্পনা

বাজেট বক্তৃতায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে সরকার রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসেডোনিয়া—এই দেশগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানো উৎসাহিত করতে বিদ্যমান আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই অর্থাৎ গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয় প্রবাহ ৩৭৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়, দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে যা সর্বোচ্চ। প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ ধরে রাখতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পেশাভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিদেশে যেসব খাতে কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর জন্য বিশেষ কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও সনদের মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।