ডিএসইর তিন সূচকই এখন রেকর্ড উচ্চতায়

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সসহ বিদ্যমান তিনটি সূচকই রেকর্ড উচ্চতায় উঠে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ তিন সূচকেরই বড় উত্থান হয়। তাতেই দিন শেষে রেকর্ড হয় সূচক তিনটিতে। পাশাপাশি বাজার মূলধনও আগের দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল এক দিনে ৬০ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৬ পয়েন্টে। আর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকটি ১৯ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮৬ পয়েন্টে। এ দুটি সূচকে কয়েক দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড হচ্ছে। তবে গতকাল নতুন করে এ রেকর্ডের তালিকায় ঢুকেছে শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস সূচকটি। এটি গতকাল এক দিনে ১৫ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৯ পয়েন্টে। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি সূচকটি চালুর পর এটিই ডিএসইএসের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস সূচকটি ১ হাজার ৪৩৩ পয়েন্টের রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। ডিএসইতে বর্তমানে সূচক আছে তিনটি—ডিএসইএক্স, ডিএস-৩০ ও ডিএসইএস। তিনটি সূচকেই গতকাল রেকর্ড হয়েছে।

সূচকের পাশাপাশি বাজার মূলধনও আগের দিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় উঠেছে। বেশির ভাগ শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে গতকাল এক দিনে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। গতকাল দিন শেষে বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকায়।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের সূচক ও লেনদেনে এখন বেশ গতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে আগের দিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হচ্ছে প্রতিদিন। রেকর্ডের এ ভিড়ে দুর্বল ও মানহীন কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভাবাচ্ছে বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এরপর বাজারে নতুন করে আবার গতি সঞ্চার হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে অপেক্ষায় ছিলেন। সূচক সাড়ে ৬ হাজারের মাইলফলক ছাড়ানোর পর তাঁরা আবারও বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। এ কারণে গত কয়েক দিনে লেনদেনে বেশ গতি দেখা যাচ্ছে। তবে বাজারের এ অবস্থায় উদ্বেগের বড় কারণ স্বল্প মূলধনি ও দুর্বল মানের কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।