শেয়ারবাজারের প্রতীকী ছবি
শেয়ারবাজারের প্রতীকী ছবি

শেয়ারবাজারের সূচক দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে

গত কয়েক দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারে আজ সোমবার বড় পতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৯ পয়েন্ট বা প্রায় দেড় শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি লেনদেনও কমে আবার ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে দেশের শিল্প খাত এক মাসের বেশি সময় ধরে ধুঁকছে। তাতে শিল্প খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প খাতের উৎপাদন ও ব্যবসায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্যাস–বিদ্যুতের সমস্যার আশু কোনো সমাধান নেই। ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্ভূত এ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও বলেন, চলমান গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে ভুগছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানিও। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তাতে আজ ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৫ হাজার ৬৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। গত দুই মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২৪ জুন ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৬১৭ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ লেনদেন হওয়া ৩৮৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫৫টির বা প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দাম বেড়েছে ১৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দাম। বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনে লেনদেনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। আজ দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬০২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১০৯ কোটি টাকা বা ১৫ শতাংশ কম।

হঠাৎ বাজারে এমন দরপতনের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস–বিদ্যুতের যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরেও সমস্যা তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যার আশু সমাধানের কোনো আশার কথাও বলা হচ্ছে না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, রাতারাতি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েক বছর সময় লাগবে। এ অবস্থায় শিল্পমালিকদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। যার তাৎক্ষণিক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।

ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ সূচকের পতনে যে ১০ কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, সেগুলো হলো শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, পূবালী ব্যাংক, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইউনাইটেড পাওয়ার। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে ডিএসইএক্স সূচকটি কমেছে ১৬ পয়েন্ট।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ শেয়ার বিক্রির দিক থেকে শীর্ষে ছিলেন ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চেয়ে কিনেছেন বেশি। ঢাকার বাজারে আজ লেনদেনের প্রায় ৮৮ শতাংশই ছিল ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ৮ শতাংশ।