শেয়ারবাজার
শেয়ারবাজার

নতুন মার্জিন বিধিমালা

শেয়ারবাজারে ঋণসুবিধা মিলবে দুই শ্রেণির কোম্পানিতে

শেয়ারবাজারে ন্যূনতম তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ না থাকলে শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধা পাবেন না কোনো বিনিয়োগকারী। আগে ঋণের পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ টাকা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবগঠিত কমিশন মার্জিন বিধিমালা সংশোধন করে ন্যূনতম বিনিয়োগসীমা দুই লাখ টাকা কমিয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে সংশোধিত এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশ হয়। এতে শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধার প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে যেসব কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩০–এর নিচে ছিল, সেসব কোম্পানির শেয়ারেই শুধু ঋণসুবিধা দেওয়া হতো। বিধিমালা সংশোধন করে ঋণসুবিধা আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে শুধু দুই শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে। শ্রেণি দুটি হলো ‘এ’ এবং ‘বি’। আর এই দুই শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ঋণ পাবে শুধু ৪০ মূল্য আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) নিচে থাকা কোম্পানিগুলো। ফলে আগের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট পাঁচটি শ্রেণি রয়েছে। এগুলো হলো ‘এ’, ‘বি’, ‘জি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’। ইংরেজি আদ্যক্ষরে বিভাজিত এই শ্রেণিগুলোর মধ্যে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ভালো মানের কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলো মাঝারি মানের কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ‘জি’ শ্রেণিটি হলো গ্রিন ফিল্ড কোম্পানির জন্য। বর্তমানে এই শ্রেণিভুক্ত কোনো কোম্পানি বাজারে নেই। ‘এন’ শ্রেণিটি নির্ধারিত নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য। আর ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলো বিবেচিত হয় দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে। সংশোধিত মার্জিন বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে গ্রিন ফিল্ড, নতুন তালিকাভুক্ত এবং ‘জেড’ শ্রেণির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কোনো ঋণসুবিধা পাবেন না বিনিয়োগকারীরা। এর বাইরে এসএমই, এটিবি এবং ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রেও কোনো ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ারেও ঋণসুবিধা পাবেন না বিনিয়োগকারীরা। শুধু এই দুই শ্রেণিভুক্ত যেসব কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত ৪০-এর নিচে রয়েছে, সেসব কোম্পানির বিপরীতে ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে। শেয়ারের এই মূল্য আয় অনুপাত হিসাব করা হবে কোম্পানির সর্বশেষ লেনদেন দিবসের বাজারমূল্যকে ওই কোম্পানির সর্বশেষ চার প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে। তবে তালিকাভুক্ত জীবনবিমা খাতের কোম্পানির ক্ষেত্রে হিসাবটি হবে কিছুটা ভিন্ন। জীবনবিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ঋণের হিসাব হবে সম্পদমূল্যের ভিত্তিতে। যেসব জীবনবিমা কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য মোট সম্পদমূল্যের চেয়ে তিন গুণের বেশি নয়, শুধু সেসব কোম্পানির শেয়ারে ঋণ পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইতে ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি রয়েছে, এর মধ্যে সংশোধিত মার্জিন বিধিমালা অনুযায়ী শতাধিক কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ঋণসুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। যার মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পানিই ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত। বর্তমানে ডিএসইতে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি রয়েছে ১৯৫টি। আর ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৭৪। যেসব কোম্পানির পিই রেশিও ৪০-এর বেশি, সেসব কোম্পানির শেয়ারে ঋণ পাওয়া যাবে না, তাই ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ার পরও অনেক শেয়ার ঋণ পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবে।

জানা যায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের নভেম্বরে তৎকালীন বিএসইসি মার্জিন বিধিমালা সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। তাতে ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে পিই রেশিও ৩০ ও ন্যূনতম বিনিয়োগ সীমা পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই বিধিমালা চূড়ান্ত করার ৯ মাসের মাথায় বর্তমান কমিশন তাতে নতুন করে আবার সংশোধনী এনেছে। তাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ পাওয়া সহজ করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে মার্জিন বিধিমালা নিয়ে বাজারে নানা আলোচনা চলছিল। অবশেষে সেই বিধিমালা চূড়ান্ত হয়। বাজারেও তার প্রভাব দেখা যায় এদিন।

এদিকে সংশোধিত মার্জিন বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পর আজ মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। যদিও দিন শেষে সূচক আবার কমে যায়। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচকটি ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে। যদিও লেনদেন শুরুর প্রথম সোয়া এক ঘণ্টায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৫১ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছিল।