ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড

৮ কোটি টাকার ব্যবসা কমেছে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের ব্যবসা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটি ব্যবসা করেছে ৮৭ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা কমেছে ৮ কোটি টাকার বা প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনিরীক্ষিত এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ারধারীদের জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটির ব্যবসা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার বাইরে ব্যাংকে রাখা অর্থের বিপরীতে সুদসহ অন্যান্য আর্থিক বা ফাইন্যান্স আয়ও কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার এই খাত থেকে আয় করেছে ছয় কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই খাত থেকে কোম্পানিটির আয় ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মূল ব্যবসার বাইরে কোম্পানিটির সুদসহ আর্থিক আয় প্রায় ৩ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ব্যবসা ও সুদ আয় কমে যাওয়ায় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির মুনাফাও কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির কর–পরবর্তী মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ২ কোটি টাকা বা সোয়া ১৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

ব্যবসা কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালন খরচও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির পরিচালন খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের পরিচালন খরচ ২ কোটি টাকা কমেছে। পরিচালন খরচ কমলেও কিছুটা বেড়েছে উৎপাদন খরচ। চলতি বছর ৮৭ কোটি টাকার ব্যবসার আয়ের বিপরীতে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ পণ্য বিক্রি করে কোম্পানিটি যে আয় করেছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই পণ্য উৎপাদনের পেছনে খরচ হয়েছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির ৯৫ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে পণ্য উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের পণ্য বিক্রির আয়ের ৬৯ শতাংশ অর্থ পণ্য উৎপাদনের পেছনে খরচ হয়েছিল কোম্পানিটির।

ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার বাংলাদেশের বাজারে হরলিক্স, বুস্ট, মালটোভাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য বিক্রি করে থাকে। আগে এই ব্যবসা ছিল অপর বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) হাতে। ২০২০ সালে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় জিএসকের শেয়ার কিনে নেয় ইউনিলিভার। পরে জিএসকের নাম বদলে কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার নামে শেয়ারবাজারে লেনদেন হতে থাকে। এটি বাংলাদেশে ইউনিলিভারের মূল কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান।