
শেয়ারবাজারে ডে নেটিং বা দিনে দিনে শেয়ার কেনাবেচার সুবিধা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ মঙ্গলবার বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। সভা শেষে বিএসইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
একই সভায় রয়েল ফুটওয়্যারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চের পর শেয়ারবাজারে বিএসইসি নতুন আইপিও অনুমোদন করল। গত জুনে পুনর্গঠিত বিএসইসির এটিই প্রথম আইপিও অনুমোদন।
বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে লেনদেন–ব্যবস্থাকে অধিকতর গতিশীল, দক্ষ ও আধুনিক করতে স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত সাপেক্ষে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে সম্মতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির সম্মতির পর এখন ডে ট্রেডিং বা দিনে দিনে শেয়ার কেনাবেচার সুবিধা চালুর জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করা হবে। এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ডে ট্রেডিং সুবিধা চালু করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
ডে নেটিং সুবিধা চালুর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) থেকে বিএসইসির কাছে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি আজকের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি পুঁজিবাজারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত সিএমজেএফ টকে অংশ নিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, শুরুতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ভালো মানের শেয়ারে এই ডে নেটিং সুবিধা চালু করা হবে।
স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ভালো মানের বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএস–৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সুবিধা চালু হলে তাতে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে।
এদিকে, রয়েল ফুটওয়্যারকে ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে এই শেয়ার বিক্রি করা হবে। কোম্পানিটি বাজার থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এই অর্থ কোম্পানিটি ব্যাংকঋণ পরিশোধ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল ক্রয়ে ব্যয় করবে।
এ ছাড়া বিএসইসির সভায় মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ জন্য জনমত যাচাইয়ে সংশোধিত বিধিমালাটি বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর বাইরে সভায় ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের মেয়াদ শেষে অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।