বিকাশে ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস খুলেছেন গ্রাহকেরা, মুনাফা কত

টানাটানির সংসার। মাসের খরচ শেষে অল্প কয়েকটা টাকা থাকে। সেই টাকা বড়জোর মাটির ব্যাংকে রাখা যায়; ব্যাংকের শাখা পর্যন্ত হেঁটে যাওয়াটা বড্ড বেমানান—এমনটাই ভাবতেন বেসরকারি চাকরিজীবী মিতুল হাসান। একদিন এক বন্ধুর কাছে শুনলেন মুঠোফোনে ঘরে বসে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই কয়েক মিনিটে ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস) খোলা যায়। এতে ব্যাংকের মতো মুনাফাও পাওয়া যায়। তাহলে মন্দ কী! ঝটপট খুলে ফেললেন একটা ডিপিএস।

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা বা এফএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ডিজিটাল সঞ্চয়ের এই সুবিধা দিচ্ছে। এ জন্য বিকাশে হিসাব থাকতে বা খুলতে হবে। সুদভিত্তিক ও ইসলামি ধারার উভয় পদ্ধতিতেই সঞ্চয় করার সুযোগ আছে। বিকাশ হিসাব দিয়ে প্রতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা বা মাসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করা যায় সঞ্চয়। বর্তমানে এমএফএস প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ থেকে ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক—এই চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসিতে ডিপিএস খোলা যায়। বর্তমানে সঞ্চয়ের মেয়াদ ও পরিমাণের ওপর সুদের হার সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে পৌনে ১০ শতাংশ পর্যন্ত।

জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বিকাশে ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস খুলেছেন গ্রাহকেরা। তাঁদের ৩৪ শতাংশই আবার নারী। ডিপিএস খোলা ৪৮ শতাংশ গ্রাহকদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তার মানে তরুণেরাই তাঁদের সীমিত আয় থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেশি সঞ্চয়ে আগ্রহী।

বিকাশ আরও জানিয়েছে, গ্রাহকেরা সাধারণত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক মূলধন সংগ্রহ, গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিকস পণ্য কেনা, ভ্রমণ, পড়াশোনার খরচ, যানবাহন কেনাসহ বিভিন্ন কারণে অর্থ সঞ্চয় করেন। এমনকি দেনা বা ঋণ পরিশোধের জন্যও অনেক অর্থ জমান।

আপনি চাইলে সঞ্চয়ের বিবরণী সংগ্রহ করতে পারবেন অ্যাপস থেকে। এই ডিপিএস থেকে মিলবে করছাড়ও। ২০২১ সালে বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস বা সঞ্চয়ী সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে ডিপিএস সেবা চালু হয়। পরবর্তী সময়ে চারটি ব্যাংক কার্যক্রমে যুক্ত হয়। আর বিকাশ অ্যাপে সাপ্তাহিক ডিপিএস সেবা চালু হয় ২০২৪ সালের শুরুতে। এ ছাড়া ইসলামি শরিয়াহ্‌ অনুসারে সঞ্চয়ের জন্য সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএস সেবাও চালু করেছে বিকাশ।

ডিপিএস খুলবেন যেভাবে

বিকাশ অ্যাপে সঞ্চয় অপশনে ক্লিক করে প্রথমেই ডিপিএস, না ইসলামিক ডিপিএস—কোনটা খুলবেন, সেটি চূড়ান্ত করুন। এরপর সাপ্তাহিক নাকি মাসিক, কোন ধরনের ডিপিএস খুলবেন—তা বাছাই করুন। এরপর মেয়াদ ও কোন প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস করতে চান, তা ক্লিক করে এগিয়ে যেতে হবে। নমিনির ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পর হিসাব খোলা হয়ে যাবে। হিসাবটি খোলা নিশ্চিত হলে আপনার মুঠোফোনে খুদে বার্তা আসবে।

অ্যাপে প্রতি সপ্তাহে জমা করা যায় ২৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর মাসিক সঞ্চয় হিসাবে ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা করা যায়। সাপ্তাহিক ডিপিএস ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মেয়াদ এবং মাসিক ডিপিএস ছয় মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত মেয়াদে খোলা যায়। টাকা জমা শুরুর পর তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগে ডিপিএস বাতিল করা যায় না। তবে তিন মাস শেষে যেকোনো সময় হিসাব বন্ধের জন্য আবেদন করা যায়।

সঞ্চয়ে মুনাফা কত

বিকাশ অ্যাপে সাপ্তাহিক ২৫০ টাকার এক বছর মেয়াদি ডিপিএস খুললে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাড়ে ৮ থেকে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। তাতে মেয়াদ পূর্ণ হলে মিলবে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। আর যদি সপ্তাহে ১ হাজার টাকার এক বছর মেয়াদি ডিপিএস করেন তাহলে মেয়াদ শেষে পাওয়া যাবে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা। আর যদি কেউ সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা করে জমায় তাহলে বছর শেষে পাওয়া যাবে মুনাফাসহ ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

আর অ্যাপসে মাসিক এক হাজার টাকা জমায় এক বছর মেয়াদি ডিপিএসে সাড়ে ৯ থেকে পৌনে ১০ শতাংশ শতাংশ সুদ মিলছে। তাতে বছর শেষে মুনাফাসহ পাওয়া যাবে প্রায় ১২ হাজার টাকা। আর এক হাজার টাকা জমায় চার বছর মেয়াদি ডিপিএসে মেয়াদপূর্তিতে মুনাফাসহ মিলবে প্রায় ৫৭ হাজার। মেয়াদ যত বেশি, সুদের হারও তত বেশি। প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএসের টাকা কেটে নেওয়া হয়।

বিকাশের গ্রাহকেরা সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএস সেবা নিতে পারবেন। সিটি ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএসে ২, ৩ ও ৪ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা জমানোর সুযোগ আছে। এ ছাড়া ঢাকা ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএসে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এক থেকে চার বছর মেয়াদে জমাতে পারেন গ্রাহকেরা।