মুরগির বাজার
মুরগির বাজার

সাপ্তাহিক বাজারদর

ঈদের পরও মুরগির দাম চড়া, সোনালির কেজি ৩৬০-৪০০ টাকা

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যগুলো জানা গেছে।

বাজারে এখন দুই কেজি সোনালি মুরগির দামে এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায়। বর্তমানে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকা। সেখানে ধরনভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায়। ঈদুল ফিতরের আগের চেয়েও এখন সোনালি মুরগির দাম বেশি। ব্রয়লার মুরগির কেজিও ২০০ টাকার ওপরে।

ঈদের পর বাজারে মুরগির পাশাপাশি খাসির মাংস ও কয়েক ধরনের মাছের দাম চড়া। সরবরাহ–সংকট কাটেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের। তবে সবজির দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যগুলো জানা গেছে।

২১ মার্চ সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। ঈদকে সামনে রেখে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট ৭ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার অফিস খুললেও এখনো অনেক পরিবার ঢাকায় ফেরেনি। কারণ, ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অনেক অফিসে আবার ছুটি রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

ঈদের পাঁচ দিন পরও আজ রাজধানীর বাজারগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। সকালে কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুই বাজারের প্রায় অর্ধেক দোকানপাট বন্ধ। যেসব দোকান খোলা রয়েছে, সেখানকার বিক্রেতারা জানান, এখনো অনেক মানুষ ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেননি। তাই বাজারে বেচাকেনা কম। ক্রেতা নেই বলে বাজারে পণ্যের সরবরাহও তুলনামূলক কম। সেই সঙ্গে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

মুরগির দাম চড়া

ঈদের এক দিন আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে ঈদের তৃতীয় দিন থেকে সোনালির দাম কেজিতে আরও ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ঈদের আগের চেয়েও এখন সোনালির মুরগির দাম চড়া। বর্তমানে ধরনভেদে প্রতি কেজি সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৪০০ টাকায়। চলতি বছর রোজা শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। সে হিসেবে বর্তমানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৮০-৯০ টাকা বাড়তি।

অন্যদিকে, আজ রাজধানীতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে চাঁদরাতে ব্রয়লারের দাম ওঠে ২৩০-২৪০ টাকায়। এরপর সেই দাম কমেছে। কিন্তু সেটি রোজার আগের তুলনায় অনেক বেশি। রোজা শুরুর আগে বাজারে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় কেনা যেত। সে হিসেবে বর্তমানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেশি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের শাহ পরান হাঁস-মুরগির দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. হালিম মিয়া বলেন, ঈদের পরে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ব্যাপারীরা মুরগি কম আনছেন। এ কারণে দাম বেড়েছে।

সাধারণ মানুষের কাছে আমিষের সহজ উৎস মুরগির মাংস। ঈদ–পরবর্তী এই সময়ে মুরগির দাম চড়া থাকায় এ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা।

কৃষি মার্কেটে মুরগির দোকানে দাঁড়িয়ে কথা হয় একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির কর্মী হাসান বাপ্পির সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের এই সময় বাসায় মেহমান আসছেন। এ জন্য মুরগি কিনতেই হচ্ছে। কিন্তু ঈদের ৩-৪ দিন আগে ৩৬০ টাকায় সোনালি মুরগি কিনেছিলাম। আজ ৪০০ টাকায় কিনলাম। বিক্রেতারা একটা উপলক্ষ বা অজুহাত পেলেই দাম বাড়িয়ে দেন।

খাসির মাংসের দামও বাড়তি

ঈদের সময় গরুর মাংসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়; সঙ্গে দামও বাড়ে। এ বছর ঈদের আগে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। অবশ্য কোনো কোনো বাজারে এর চেয়েও কিছুটা বাড়তি দামে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। তবে এখন কেজিতে ১০০ টাকার মতো দাম কমেছে। আজ বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।

এদিকে, বাড়তি রয়েছে খাসির দাম। রোজার শুরুতে বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনা যেত। ঈদের আগে এ দাম কেজিতে ১৫০-২০০ টাকা বেড়ে যায়। ঈদের পরে দাম সামান্য কমলেও তা এখনো চড়া। আজ এক কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ঈদের পর বাজারে কয়েক ধরনের মাছের দামেও বাড়তি প্রবণতা দেখা গেছে। আজ বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় এ দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেশি। পাশাপাশি তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা প্রভৃতি মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বাড়তি।

ঈদের পর সবজির চাহিদা ও সরবরাহ দুটিই কম। এ কারণে এসব পণ্যের দামও কম। অবশ্য টমেটো, শসা, কাঁচা মরিচ, লেবুর কিছুটা চাহিদা রয়েছে। আজ প্রতি কেজি টমেটো ৩০-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ টাকা, শসা ৩০-৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে। আর এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকায়।