সুদের হার কমিয়েছে চীন, ‘বিস্ময়কর’ বলছেন বিশ্লেষকেরা

চীন
  ফাইল ছবি: রয়টার্স

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতি হারানোর কারণে চীনসহ অনেক দেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দেশটির সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমাজে অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নীতি সুদহার হ্রাস করেছে। বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, এটা বিস্ময়কর।

বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, এর ফলে আগামী সপ্তাহে চীনের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের মানদণ্ড বা লোন প্রাইম রেট হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, একদিকে চীনে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে এবং অপর দিকে মূল্যস্ফীতি নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে, যেখানে অন্যান্য বড় দেশ মূল্যস্ফীতির সূচক নিম্নমুখী করতে নানা কসরত করছে। এ বাস্তবতায় দেশটির মুদ্রানীতিতে শিথিলতা আনা ছাড়া উপায় ছিল না। অর্থাৎ চীনের সমাজে এখন অর্থের প্রবাহ বাড়াতে হবে, সে কারণে এই সুদহার হ্রাস।

চীনের নীতিনির্ধারকদের চিন্তার আরেক কারণ হলো, দেশটির আবাসন খাতের একাধিক কোম্পানি ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এ ছাড়া এক সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি যথাসময়ে ঋণের কিস্তি দিতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবে দেশটির আর্থিক খাত সংকটের মুখে পড়েছে।

কমার্জব্যাংকের চীনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টমি উ রয়টার্সকে বলেন, ‘এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে; ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আগেই তা করতে হবে।’

পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) বলেছে, তাদের ৫৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার ২২৫ কোটি ডলারের যে তহবিল থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, তার সুদহার ১৫ ভিত্তি পয়েন্ট কমানো হয়েছে। আগের ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এখন তা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে ২৬ জন বাজার পর্যবেক্ষকের ওপর রয়টার্সের পরিচালিত এক জরিপে ২০ জন বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিবিওসি ওই সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। মাত্র ছয়জন বলেছিলেন, এটা সামান্য হ্রাস করা হতে পারে।

এ ছাড়া পিবিওসি সাত দিন মেয়াদের রিভার্স রেপোর হার ১০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ করেছে। এই হারে তারা ২৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বাজারে ছেড়েছে।

চলতি বছর চীনের মুদ্রা ইউয়ানের পাঁচ শতাংশ দরপতন হয়েছে। আজ এক ডলারের বিনিময়ে ৭ দশমিক ২৮ ইউয়ান পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও নীতি সুদহার বাড়াবে—এ গুঞ্জনে এশিয়ার বড় দেশগুলোর মুদ্রার দরপতন হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে হলে পিবিওসিকে নীতি সুদহার বাড়াতে হতো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।