জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন
জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন

জ্বালানি সাশ্রয়ে বাসায় থেকে কাজ করা ও সুষম গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান আইইএর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তাই জ্বালানি সাশ্রয়ে সুষম গতিতে গাড়ি চালানো এবং বেশি সংখ্যক মানুষকে বাসায় থেকে কাজে উৎসাহিত করতে সরকারগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জন্য আইইএ ১০টি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। খবর বিবিসির

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বিবিসিকে জানান, ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা–সংকটের মুখে পড়েছে বিশ্ব। সরকারগুলোর সামনে এখন জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। যদিও এমন পদক্ষেপ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে।

এশিয়ার অনেক দেশ ইতিমধ্যে তাদের জ্বালানি ব্যবহার সীমিত করার ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও থাইল্যান্ডে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ছাড়া কিছু দেশ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় কমিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিমান ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে। পাকিস্তান এবং ফিলিপাইন তাদের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মদিবস চালু করেছে।

আইইএর মোট ৩২টি সদস্যদেশ রয়েছে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান এবং ২৪টি ইউরোপীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর প্রধান ভূমিকা হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সমস্যা সম্পর্কে বিশ্লেষণ ও পরামর্শ প্রদান করা।

আইইএ সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আলাদা আলাদা ব্যক্তিদের জন্যও নানা পরামর্শ দিয়েছে। এগুলো হলো গণপরিবহনের (পাবলিক ট্রান্সপোর্টের) ব্যবহার বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত গাড়িকে বিকল্প দিনে শহরের কেন্দ্র এলাকায় প্রবেশাধিকার দেওয়া, কার শেয়ারিং ও দক্ষ ড্রাইভিং অভ্যাস উৎসাহিত করা, যেখানে সম্ভব বিমান ভ্রমণ এড়ানো ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করা।

আইইএ বলেছে, রান্না ও জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য এলপিজি সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত কিছু যানবাহন গ্যাসে রূপান্তরিত করতে হবে এবং এলপিজি কম ব্যবহারের অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানান, ‘আইইএর সদস্যদেশগুলো এই মাসের শুরুতে তাদের জরুরি তেলের ২০ শতাংশ বা ৪ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদি মনে হয় অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন, তাহলে আরও জ্বালানি বাজারে ছাড়া যেতে পারে।’

ফাতিহ বিরোল বলেন, বিশ্ব এখন যে জ্বালানি–সংকটের মুখোমুখি, তা অনেক গভীর। এটি ১৯৭০–এর জ্বালানি–সংকটের চেয়ে বড়। এমনকি রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমণ করার পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর যে ধাক্কা এসেছে, তার চেয়ে বড়।

ফাতিহ বিরোল আরও বলেন, যদিও হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবু যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি আগের চেয়ে কম হবে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি–সংকটের সমস্যা জিইয়ে রাখবে। তেলক্ষেত্র, রিফাইনারি, পাইপলাইনসহ জ্বালানি অবকাঠামো আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক মাস সময় লাগবে।