আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি দাম ১১৭ ডলারের কাছাকাছি ওঠার পর সোমবার তা কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আছে।
সোমবার লন্ডনসহ বিভিন্ন বাজারে দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে।
শুক্রবার তেলের দাম বেড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারেন—এমন আশঙ্কা দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা ও অপরিশোধিত তেলের মজুত কমতে থাকায় গত কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে।
রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে, নাকি তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা হবে—এটাই এখন মূল প্রশ্ন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার তেহরানে গেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি আশা করেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।
গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলা বৃদ্ধি করেছে ইরান। একই সময়ে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধির কারণে দেশটি থেকে কিছু কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বার্কলেসের বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বৃদ্ধি, তেলবাহী জাহাজে অব্যাহত আক্রমণ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্টের আগাম চুক্তির দর ব্যারেলপ্রতি আজ ১০০ ডলারের সামান্য নিচে ছিল। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম বেশি থাকতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।