যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এতে পলিসিলিকন দিয়ে তৈরি আমদানি করা পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ও সৌর প্যানেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পলিসিলিকন।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে পলিসিলিকন ও এ-সংক্রান্ত পণ্যের আমদানির জন্য ন্যূনতম মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে পলিসিলিকন উৎপাদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারীরা চীনের চিপশিল্পের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে বিরোধের অন্যতম কারণ এই চিপশিল্প।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যকে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ করবে। চীনের কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দিতে বেইজিং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তারা আরও বলেছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সুরক্ষাবাদী নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে না বলেও মন্তব্য করেছে চীনা দূতাবাস।
নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সুপারিশ তিনি গ্রহণ করেছেন। এর আওতায় পলিসিলিকন ও এ-সংক্রান্ত পণ্যের আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক এবং ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হবে। আগামী ডিসেম্বর থেকে এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কথা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পলিসিলিকনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কয়েক দশক ধরে বিদেশি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পলিসিলিকন উৎপাদনকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তাদের ব্যবসা দুর্বল করেছে। মার্কিন কর্মসংস্থান রক্ষা ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে শুল্ক আরোপের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই অবস্থান নিয়ে আসছেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক পণ্যে পলিসিলিকন গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তবে আমদানির কারণে বিশ্বে পলিসিলিকন উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ২০০৫ সালের ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ২ শতাংশের নিচে নেমেছে।
পলিসিলিকন উৎপাদনে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে চীনের। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপে দেশটির প্রধান দুই পলিসিলিকন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হেমলক সেমিকন্ডাক্টর ও ওয়াকার কেমির লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কম্পিউটার চিপ উৎপাদনকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের বাণিজ্যযুদ্ধও চলছে, যা গত বছরের সালের মে মাস থেকে স্থগিত রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষকেরা বলেছেন, নতুন শুল্ক আরোপ চীনের ভূমিকা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থায় নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ নজির। এর আগে চীন থেকে আমদানি করা ড্রোন, মানবসদৃশ রোবটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
চীনও চলতি সপ্তাহে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ড্রোন রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত আছে; পাশাপাশি আমদানি করা প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিন নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পর্যালোচনাও শুরু করেছে বেইজিং।