বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বিনিয়োগ ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে অ্যালফাবেট এখন ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি বার্কশায়ারের তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেওয়া নথিতে বার্কশায়ার জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের হাতে অ্যালফাবেটের প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছিল। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। তিন মাস আগে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির হাতে অ্যালফাবেটের শেয়ার ছিল ৫ কোটি ৭৮ লাখ।
এই বিনিয়োগের মধ্যে জুন মাসে বার্কশায়ার অ্যালফাবেটে যে ১ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ করেছে, সেটাও ধরা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণে সহায়তার জন্য বার্কশায়ার এই বিনিয়োগ করেছে।
বার্কশায়ারের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এখনো অ্যাপলে। জুন মাস শেষে অ্যাপলে তাদের বিনিয়োগ ছিল ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আমেরিকান এক্সপ্রেসে বিনিয়োগ ছিল ৫ হাজার ১৩০ কোটি ডলার। এরপর আছে কোকা-কোলা ও ব্যাংক অব আমেরিকা।
এদিকে দেড় বছর ধরে রাখা অ্যালকোহলজাত পানীয় উৎপাদক কনস্টেলেশন ব্র্যান্ডসের সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে বার্কশায়ার। একই সময়ে ডেল্টা এয়ার লাইনস ও মেইসিসে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে তারা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ শুরু করে বার্কশায়ার।
৩০ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে বার্কশায়ারের বিনিয়োগের হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মোট বিনিয়োগ ৩২ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের, এর মধ্যে মার্কিন শেয়ারবাজারের পোর্টফোলিও বড় একটি অংশ।
বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বার্কশায়ার ২ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে। বিক্রি করেছে ৩৭০ কোটি ডলারের শেয়ার। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৪ প্রান্তিক পর তারা শেয়ার বিক্রির চেয়ে কিনেছে বেশি।
বার্কশায়ারের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ অ্যাবেল তাঁর পূর্বসূরি ও কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের রেখে যাওয়া নগদ অর্থের বিপুল মজুত কমাতে শুরু করেছেন।
৩০ জুন বার্কশায়ারের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ কমে ৩৬ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। ৩১ মার্চ এই পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ২০ কোটি ডলার। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ৪৫০ কোটি ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয় করেছে।
বাফেট এখনো বার্কশায়ারের চেয়ারম্যান। গত মাসে সিএনবিসিকে তিনি বলেন, অ্যালফাবেটে বিনিয়োগের ধারণাটি তাঁরই ছিল। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে বার্কশায়ার অ্যালফাবেটের শেয়ার কেনা শুরু করে। বাফেট আরও বলেন, বার্কশায়ার কীভাবে মূলধন বিনিয়োগ করবে, সে বিষয়ে তিনি ও অ্যাবেল পরামর্শ করেন।
আরও কিছু পরিবর্তন
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডেল্টা এয়ার লাইনসে বার্কশায়ারের বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির হাতে ডেল্টার ৫ কোটি ৭৩ লাখ শেয়ার ছিল। এর মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
মেইসিসে বিনিয়োগ দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৭৩ লাখ শেয়ারে দাঁড়িয়েছে। এসব শেয়ারের মূল্য ছিল ১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এ ছাড়া আবাসন প্রতিষ্ঠান লেনারের আরও শেয়ার কিনেছে বার্কশায়ার। একই খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ডি আর হর্টনে ৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে অ্যালি ফাইন্যান্সিয়াল, ব্যাংক অব আমেরিকা, ক্যাপিটাল ওয়ান, কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রতিষ্ঠান ডাভিটা, খুচরা পণ্য বিক্রেতা ক্রোগার ও ইস্পাত উৎপাদক নিউকরে বার্কশায়ারের শেয়ার কমেছে।
অ্যাবেল গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, বার্কশায়ারের শেয়ার বিনিয়োগের ৯৪ শতাংশের তদারকি তিনি করেন। বাকি ৬ শতাংশের দায়িত্বে আছেন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক টেড ওয়েশলার।
আরও যেসব কোম্পানিকে বার্কশায়ারের হিস্যা আছে সেগুলো হলো— বিএএনএসএফ রেলওয়ে, জিকো গাড়ি বিমা, বিভিন্ন জ্বালানি কোম্পানি। সেই সঙ্গে ব্রুকস, ডেইরি কুইন, ফ্রুট অব দ্য লুম ও সিজের মতো কিছু খুচরা ব্র্যান্ডেও তাদের বিনিয়োগ আছে।