যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

২০২৫ কেটেছে দুর্বলতায়, ২০২৬–এর শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি

কোভিড–১৯ মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০২৫ সাল। অথচ নতুন বছরের শুরুতেই, অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই সে দেশের শ্রমবাজারে গতি ফিরেছে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেকারত্বের হার কমেছে।

মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশটিতে ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বেকারত্বের হার কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। খবর বিবিসির

সরকারি ব্যয় বড় পরিসরে কমানো, শুল্ক (ট্যারিফ) অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের মতো নীতিগত পরিবর্তনের কারণে গত বছর শ্রমবাজারে ধীরগতি দেখা দেয়। সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার।

এ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হোয়াইট হাউস বলছে, অভিবাসন নীতির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে আগের চেয়ে কমসংখ্যক নতুন চাকরির প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক অর্থনীতিবিদও অবশ্য যুক্তির সঙ্গে একমত।

তবে একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতিতে গতি আনতে সুদের হার কমানোর জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, জানুয়ারির কর্মসংস্থানের চিত্র বাস্তবতার তুলনায় কিছুটা বেশি শক্তিশালী মনে হতে পারে। কারণ, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিগত কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রভাব এতে থাকতে পারে। চাকরির শূন্যপদ-সংক্রান্ত অন্যান্য সরকারি জরিপে শ্রমবাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলেছে।

তবু জানুয়ারির এই ইতিবাচক তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের ওপর দ্রুত সুদ কমানোর চাপ কিছুটা কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে। মরগান স্ট্যানলি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনৈতিক কৌশলবিদ এলেন জেন্টনার বলেন, ‘কর্মসংস্থানে এমন গতি বেকারত্ব কমাতে যথেষ্ট। এটি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের অপেক্ষাকৃত স্থির অবস্থানকে সমর্থন করে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে বেশি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে কাজ পাওয়ায় বেকারত্বের হার কমেছে। একই সঙ্গে মজুরিও বেড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় গড় আয় গত এক বছরে বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

খাতভিত্তিক হিসাবে স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে ফেডারেল সরকার ও আর্থিক খাতে চাকরি কমেছে।

এদিকে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ন্যান্সি ভ্যান্ডেন হাউটেন বলেন, সামগ্রিক প্রতিবেদনটি শ্রমবাজারের শক্ত অবস্থানকে কিছুটা ‘অতিরঞ্জিত’ করে দেখাচ্ছে। কারণ, নতুন চাকরির বড় অংশই সীমিত কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত।

সাম্প্রতিক মাসগুলোর কর্মসংস্থানের তথ্যেও বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে। মার্কিন শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই দুই মাসে আগের হিসাবের তুলনায় ১৭ হাজার কম চাকরি হয়েছিল। এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত কর ও কর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়ার পর ২০২৫ সালের উপাত্ত সংশোধন করে দেখা গেছে, এই বছরে প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে মোট ৮ লাখ ৬২ হাজার কম চাকরি সৃষ্টি হয়ে। এটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ।