
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে আলোচিত দল আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার বিচারে এবারের বিশ্বকাপে খেলা তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি মানুষের দেশটি ছিল বিশ্বকাপের বড় চমক। দ্বিতীয় রাউন্ড বা ৩২ দলের নকআউট পর্বে ওঠে দেশটি তাক লাগিয়ে দেয়। অবশ্য নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার সঙ্গে লড়াই করে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দেশটি।
এবার সেই কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আজ বিশ্বব্যাংক কেপ ভার্দে নিয়ে কান্ট্রি ইকোনমিক আপডেট ২০২৬ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। মূলত রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন, বেসরকারি ভোগব্যয়ের বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উন্নতির ফলে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, পর্যটননির্ভরতা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের (এসওই) আর্থিক ঝুঁকি এবং দ্বীপগুলোর মধ্যে দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এখনো অর্থনীতির বড় দুর্বলতা হিসেবে রয়ে গেছে।
‘আনপ্যাকিং দ্য ইন্টার-আইল্যান্ড কানেক্টিভিটি–গ্রোথ নেক্সাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কেপ ভার্দের সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাবনা, দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি এবং অর্থনীতিকে আরও সহনশীল ও বৈচিত্র্যময় করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দ্বীপগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের অভাব উৎপাদনশীলতা, বাজারের সংযোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা।
কেপ ভার্দের দারিদ্র্য হার কমে ৫১%
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে দারিদ্র্যের হার ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৫১ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। শ্রমবাজারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বেকারত্বের হার কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। তবে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এখনো ১৫ শতাংশের বেশি।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, কেপ ভার্দের শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। বেকারত্বের হার কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তরুণ–তরুণীদের মধ্যে বেকারত্ব এখনো ১৫ শতাংশের বেশি।
দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা দেশটির সম্ভাব্য আমদানির ৭ মাসের ব্যয় মেটানোর সমান। এদিকে রাজস্ব আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটি আর্থিক উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। এরপর মধ্য মেয়াদে তা প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কেপ ভার্দে আবাসিক প্রতিনিধি ইন্দিরা কাম্পোস বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বেসরকারি খাতের গতিশীলতা একসঙ্গে কাজ করলে কী অর্জন সম্ভব, তা দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। এখন প্রয়োজন পর্যটননির্ভর পুনরুদ্ধারকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া। এর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দ্বীপগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা।’
ইন্দিরা কাম্পোস বলেন, যোগাযোগ উন্নত হলে ব্যয় কমবে, বাজারগুলো আরও সংযুক্ত হবে এবং সব দ্বীপের মানুষ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগ করতে পারবেন।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমান ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হওয়ায় তা অর্থনৈতিক সংযোগ ও পর্যটন খাতের বৈচিত্র্য আনয়নের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বিশেষ করে তরুণ, নারী এবং পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা দ্বীপগুলোর শ্রমিকেরা তুলনামূলক কম সুফল পাচ্ছেন।